🏠︎ » প্রবাস » সৌদি আরবের নিরাপত্তায় যেকোনো পর্যায় পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত পাকিস্তান

সৌদি আরবের নিরাপত্তায় যেকোনো পর্যায় পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত পাকিস্তান

সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে ‘যে কোনো পর্যায়’ পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত পাকিস্তান। দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান মুখপাত্র জানিয়েছেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তার বিষয়ে ইসলামাবাদের প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি শর্তহীন। মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তাও এই অঙ্গীকারের আওতায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার আরব নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, কূটনৈতিক ও সামরিক—উভয় ক্ষেত্রেই পাকিস্তান সৌদি আরবের পাশে দৃঢ়ভাবে রয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কের প্রতিও পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতি অবিচল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের বিস্তার এবং এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগের মধ্যে সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার পর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এমন অবস্থানের কথা জানানো হলো।

সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তায়েফের আকাশে একটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। পরে ওই ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক ইয়েমেনি নাগরিক নিহত হন।

গত সপ্তাহে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর ধারাবাহিক হামলায় এটাই দেশটিতে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে এসব হামলায় ৮০ জনের বেশি মানুষ আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবের নিরাপত্তা বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে আইএসপিআর মহাপরিচালক বলেন, এই প্রতিশ্রুতির মধ্যে মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা সেখানে হারামাইন শরিফাইনের সুরক্ষায় নিয়োজিত আছি।’

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে কোনো ধরনের সন্দেহ থাকা উচিত নয়। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের ক্ষেত্রে পাকিস্তান প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান বজায় রাখবে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরি বলেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় পাকিস্তান নিঃশর্তভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুই দেশের সম্পর্ককে তিনি ‘আবেগপূর্ণ, গভীর, ঐতিহাসিক এবং অটুট’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

এদিকে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজতে পাকিস্তান আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বলে জানান তিনি। আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংঘাতের সমাধান বের করতে ইসলামাবাদ আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছে বলেও জানান তিনি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর পশ্চিম এশিয়ার সংকটে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর একটি হিসেবে সক্রিয় হয়ে ওঠে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও সহযোগিতায় দীর্ঘ আলোচনার পর জুন মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)’ স্বাক্ষরিত হওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ