🏠︎ » জাতীয় » রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল, জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ

রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল, জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে দুই দিনের সরকারি সফরে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো জেলাজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে তাঁর হেলিকপ্টার অবতরণের কথা রয়েছে। সেখান থেকে তিনি জেলা সার্কিট হাউসে যাবেন এবং সেখানে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন।

রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে এরই মধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নিজ জেলার প্রিয় সন্তানকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো বরণ করে নিতে ঠাকুরগাঁওবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ, কৌতূহল ও আবেগ। শহরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এখন তাঁর আগমনের অপেক্ষা।

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ শেকড়ে ফেরা ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে শুধু একটি রাষ্ট্রীয় সফর নয়, বরং এটি গর্ব, আনন্দ ও আবেগের একটি বিশেষ মুহূর্ত। জাতীয় রাজনীতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সুপরিচিত হলেও ঠাকুরগাঁওয়ের অনেক মানুষের কাছে তিনি এখনও পরিচিত ‘আলমগীর স্যার’ নামে।

সফরসূচি অনুযায়ী, সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি শহরের সেনুয়া পাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে যাবেন। সেখানে তিনি তাঁর বাবা সাবেক মন্ত্রী মরহুম মির্জা রুহুল আমীন (চোখামিয়া) ও মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করবেন।

কবর জিয়ারত শেষে রাষ্ট্রপতি শহরের কালীবাড়ি এলাকায় তাঁর নিজ বাসভবনে যাবেন। সেখানে দুপুরের খাবার গ্রহণ ও বিশ্রামের পর বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এতে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতি নিজ বাসভবনে ফিরে গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সেখানেই তাঁর রাত্রিযাপনের কথা রয়েছে।

সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি। এ কর্মসূচি শেষে তিনি নিজ বাসভবনে ফিরে দুপুরের খাবার গ্রহণ ও বিশ্রাম করবেন। পরে সার্কিট হাউসে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সেখান থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ছাড়বেন রাষ্ট্রপতি।

এদিকে রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তাঁর নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। সফরের সম্ভাব্য স্থান, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, তিনি শুধু রাষ্ট্রপতি নন, ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তানও। দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে নিজের মানুষের কাছে তাঁর ফিরে আসা জেলার মানুষের জন্য গর্ব ও আবেগের বিষয়। ভালোবাসা ও সম্মানের সঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম আগমন জেলার মানুষের জন্য আনন্দ, গর্ব ও আবেগের বিষয়। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফর উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সফরের প্রতিটি কর্মসূচি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. বেলাল হোসেন জানান, রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরকে কেন্দ্র করে জেলায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁর কর্মসূচি, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এসব এলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ