দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি মন্তব্য করেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী আইসিইউতে চলে গেছেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক নেই, অথচ বিদ্যুতের দাম ও বিল কয়েক গুণ বেড়েছে। আগে যে বিল ১ হাজার ২০০ টাকা আসত, এখন সেটি প্রায় ৪ হাজার টাকা হচ্ছে। সরকার বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অতিরিক্ত অর্থ কোথায় যাচ্ছে, তার কোনো হিসাব জনগণ এখনো পায়নি।
এনসিপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে—এমন আশ্বাস যারা দিয়েছিলেন, তাদের ক্ষমতায় আসার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ কাঙ্ক্ষিত সংস্কার তো পায়ইনি, বরং অনেকের জন্য তিন বেলা খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ নেই, আসছে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল। গ্যাসের চুলায় আগুন নেই এবং দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও কমছে। তার দাবি, লাখ লাখ মানুষ চাকরি ও কর্মসংস্থান হারাচ্ছেন।
গণভোট প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন দল সংস্কারের পক্ষে প্রচার চালিয়েছে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের পর ১৮ কোটি মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি অভিযোগ করেন, কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা হয়েছে। তবে জনগণ ১১ দলীয় জোটকে সমর্থন দিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এই সমর্থনকে সঙ্গে নিয়ে জোট ও জাতীয় নাগরিক পার্টি ভবিষ্যতেও জনগণের অধিকার আদায়ের কথা বলবে।
তিনি আরও বলেন, হামলা, মামলা কিংবা হুমকিকে ভয় না করে ১১ দলীয় জোট জনগণের প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে কাজ করে যাবে।
কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য নেতারা।