🏠︎ » রাজনীতি » জামায়াতের লংমার্চে পরিকল্পিতভাবে ঝামেলা তৈরির চেষ্টা ছিল: রাশেদ খাঁন

জামায়াতের লংমার্চে পরিকল্পিতভাবে ঝামেলা তৈরির চেষ্টা ছিল: রাশেদ খাঁন

জামায়াতের লংমার্চ ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হলেও দলটির পক্ষ থেকে পরিকল্পিতভাবে ঝামেলা তৈরির চেষ্টা ছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এমন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জামায়াতের অনুরোধ অনুযায়ী ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত তাদের গাড়িবহরকে পুলিশ নিরাপত্তা দিয়েছে। তবে তারা সহযোগিতা না চাইলেও একই ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হতো বলে দাবি করেন তিনি।

রাশেদ খাঁন তাঁর স্ট্যাটাসে লেখেন, জামায়াতের লংমার্চে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে। তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ প্রটেকশন দিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত গাড়িবহর নিয়ে যাওয়া হয়। প্রয়োজন না থাকলেও পুলিশ একই ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে তাঁর অভিযোগ, লংমার্চকে কেন্দ্র করে জামায়াত আগে থেকেই একটি ঝামেলা তৈরির পরিকল্পনা করেছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, রাতে মতিঝিলে লাঠিসোটা জড়ো করা হয়েছিল। পরে এসব লাঠি বহরের গাড়িতে তোলা হয়েছিল কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন বলেও উল্লেখ করেন।

জামায়াতের বহরে থাকা শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়ার অভিযোগও তোলেন রাশেদ খাঁন। তিনি উদাহরণ হিসেবে ‘হৈ হৈ রৈ রৈ, ছাত্রদল, যুবদল গেলি কই’ এ ধরনের স্লোগানের কথা উল্লেখ করেন।

রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, সার্বিক পরিস্থিতি দেখে অনেকের মনে হয়েছে—এটি ব্যবস্থাপনা, অর্থায়ন ও জনবলের দিক থেকে জামায়াতের এবং সামনে রয়েছে এনসিপির লংমার্চ। তাঁর দাবি, জামায়াত সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়ার ঝুঁকি নিতে চায় না। সে কারণে এনসিপির নেতাদের সামনে রেখে এবং আওয়ামী লীগকে পেছনে রেখে রাজনৈতিকভাবে মাঝখান থেকে মাঠে নামতে চায় দলটি।

এদিকে জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্ট এনসিপিকে জামায়াতের মুখপাত্র হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না বলেও দাবি করেন রাশেদ খাঁন। তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেন, এনসিপি আজ হোক বা আগামীকাল, একসময় জামায়াতের জোট ছেড়ে দেবে তাহলে তাদের এত গুরুত্ব কেন দেওয়া হচ্ছে?

জামায়াতের জোটসঙ্গীদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও নিজের মত তুলে ধরেন রাশেদ খাঁন। তিনি দাবি করেন, এনসিপিকে বিএনপি চারটির বেশি আসন ছাড়তে রাজি না হওয়ায় দলটি জামায়াতের সঙ্গে গেছে। একইভাবে মাওলানা মামুনুল হকের দলও পর্যাপ্ত আসন পেলে বিএনপির সঙ্গেই থাকত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অন্য দলগুলোর ক্ষেত্রেও আসন সমঝোতার বিষয়টি তুলে ধরে রাশেদ খাঁন বলেন, ভবিষ্যতে বিএনপি বেশি আসন সমন্বয় করতে পারলে এসব দল আবারও জোট পরিবর্তন করতে পারে। তাঁর মন্তব্য, জামায়াত যাদের ওপর আস্থা রেখে অর্থ ও সম্পদ ব্যয় করছে, একদিন তারাই দলটিকে এমন ধাক্কা দিতে পারে, যেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি নাও থাকতে পারে।

জামায়াতের প্রতি সতর্কবার্তা জানিয়ে স্ট্যাটাসের একপর্যায়ে রাশেদ খাঁন লেখেন, ভবিষ্যতের ডায়েরি এখন থেকে কিনে রাখুন, কী কী বলবে সেটি নোট করার জন্য!

তিনি আরও দাবি করেন, এনসিপি ২০৩১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা ও শক্তি তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে এমন জনশ্রুতি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এনসিপির অতীতের বিভিন্ন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে দলটির সঙ্গে জামায়াতের বর্তমান রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে ২০৩১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এনসিপি এগোচ্ছে বলে আবারও দাবি করেন তিনি।

স্ট্যাটাসের শেষ দিকে জামায়াতের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে রাশেদ খাঁন লেখেন, একদিন আপনারাই বলবেন, দুধকলা দিয়ে কালসাপ পুষলাম।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ