🏠︎ » বাংলাদেশ » অপরাধ » খুলনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘শুটার আরমান’ গ্রেপ্তার, অস্ত্র-গুলিও উদ্ধার

খুলনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘শুটার আরমান’ গ্রেপ্তার, অস্ত্র-গুলিও উদ্ধার

খুলনা মহানগরী ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করার অভিযোগে ‘আরমান বাহিনী’র প্রধান আরমান হোসেন দীপু ওরফে শুটার আরমান ওরফে আরমিনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৬। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার খুলনায় র‌্যাব-৬-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে রোববার রাতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একটি অভিযান পরিচালনা করে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি শটগান ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার আরমান হোসেন দীপু খুলনা জেলার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা এলাকার মো. আসাদুজ্জামান ওরফে মিন্টুর ছেলে। র‌্যাব জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে ছয়টি হত্যা মামলা এবং একটি মসজিদের ভেতরে গুলি চালিয়ে দুই মুসল্লিকে হত্যাচেষ্টার মামলা রয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব-৬-এর উপঅধিনায়ক মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, দৌলতপুরের বিদ্যুৎ অফিসের মসজিদে গুলিবর্ষণসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে আরমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুন দৌলতপুরের একটি মসজিদে প্রবেশ করে দুই মুসল্লিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিল সে।

র‌্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, দৌলতপুর ও আড়ংঘাটা এলাকায় ৮ থেকে ১০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল গড়ে তুলে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, অস্ত্র প্রদর্শন এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আরমানের বিরুদ্ধে। সৌদি আরব ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নম্বর ব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হতো। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, আরমান আগে খুলনার আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী হুমায়ুন কবির ওরফে হুমার গ্রুপের সদস্য ছিল। পরবর্তী সময়ে ওই দল ছেড়ে নিজেই ‘আরমান বাহিনী’ নামে একটি নতুন সন্ত্রাসী গ্রুপ গড়ে তোলে। এই বাহিনীতে ৮ থেকে ১০ জন সদস্য রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। এর মধ্যে ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আরমানের আগের অপরাধের তথ্য পর্যালোচনা করে বেশ কয়েকটি হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব মামলার মধ্যে মামুন মোল্লা, মারজান মুন্না, কালা রানা, ঘাউড়া রাজিব, যুবদল নেতা রাশু ও মনিরুল ইসলাম রনির হত্যাকাণ্ডের মামলা রয়েছে। এ ছাড়া দৌলতপুরের মসজিদে দুই মুসল্লিকে হত্যাচেষ্টার মামলাও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

র‌্যাব-৬-এর উপঅধিনায়ক মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আরমান বাহিনী’র অন্য সদস্য ও সহযোগীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ