🏠︎ » বাংলাদেশ » অপরাধ » যশোরে গ্রেপ্তার চট্টগ্রামের আলোচিত ডেভিড ইমন

যশোরে গ্রেপ্তার চট্টগ্রামের আলোচিত ডেভিড ইমন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত তিনটার দিকে যশোরের কোতয়ালির ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চেকপোস্ট বসিয়ে ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের চারটি টিম ও কোতয়ালি থানা পুলিশের একটি টিম এ অভিযানে অংশ নেয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

যশোর কোতয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ

চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজিম উদ্দিন বেঙ্গল প্রতিদিন-কে বলেন, আমরা অনেক দিন ধরে তাদের ব্যাপারে কাজ করছিলাম। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় যশোরের ঝুমঝুমপুর থেকে গত রাতে যশোরের পুলিশের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়।

ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। এলাকায় তার ছিল সাধারণ জীবনযাপন। তবে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্রুপে যোগ দেওয়ার পর থেকেই চট্টগ্রামে একের পর এক খুনের ঘটনায় তার নাম জড়িয়ে পড়ে। বিদেশি পিস্তল হাতে তার একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ধীরে ধীরে তিনি সাজ্জাদের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাজ্জাদ বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই তিনি চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে ফোন করে চাঁদা দাবি করেন। দাবি অনুযায়ী অর্থ না দিলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে গুলি ও হামলার ঘটনা ঘটানো হয়।

গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার অ্যাকসেস রোডে ডিডিএন (ডিজিটাল ডট নেট) নামে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়। পরে র‌্যাব ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ ডিডিএনের কার্যালয়ে ঢুকে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। মামলায় উল্লেখ করা হয়, এই হামলার আগে সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন চাঁদা দাবি করেছিলেন।

এই গাড়িতে পালিয়ে যাচ্ছিলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ডেভিড ইমন পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তারা ছুরি ও কিরিচ নিয়ে হামলা করেন না। তাদের হামলার ধরন কেমন, তা পুরো চট্টগ্রামবাসী জানে।

পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপে কল করে নিজেকে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে ডিডিএনের স্বত্বাধিকারীর কাছে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং পরে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।

এর দুই দিন পর নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এক্সেস রোডের মরিয়ম হাইটস ভবনে অবস্থিত ডিডিএনের কার্যালয়ে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল হামলা চালায়। হামলাকারীরা অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র ও কাচের দরজাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

এ সময় দুর্বৃত্তরা অফিসের ড্রয়ারে থাকা ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আরিফুল ইসলামের কাঁধের ব্যাগ নিয়ে যায়। ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্প্রতি এক ব্রিফিংয়ে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সল আহম্মেদ বেঙ্গল প্রতিদিন-কে বলেন, আমরা ডেভিড ইমনের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। এ জন্য আমাদের গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত টিম বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। ডেভিড ইমনসহ এই চক্রের বাকিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আমাদের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।

এর আগে ডিডিএনের কার্যালয়ে চাঁদা দাবি, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় চকবাজার থানা পুলিশ ও র‍্যাব-৭ যৌথ অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. ইউনুস, ইমরান হোসেন চ্যাং, আকবর হোসেন, মো. সুমন, মো. মনির ওরফে কেহেরমান, মো. গিয়াস উদ্দিন, মো. নয়ন এবং মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ ওরফে ফরহাদ। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ইমরান হোসেন চ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ১২টি, নয়নের বিরুদ্ধে ৮টি, মনিরের বিরুদ্ধে ৭টি, আকবর ও সুমনের বিরুদ্ধে ৬টি করে এবং ইউনুসের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে চাঁদাবাজি, অস্ত্র, মাদক, ছিনতাই, মানবপাচার, চোরাচালান, ডাকাতি, চুরি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের ধারা রয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ