চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার পথে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে গ্রেপ্তার হয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মেহেরপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ খালেক। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে তার কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় তাকে আটক করা হয়।
ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্র জানায়, মেডিকেল ভিসায় ভারতে যাওয়ার জন্য দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে গেলে এম এ খালেকের পাসপোর্ট ও ভিসার তথ্য যাচাই করা হয়। এ সময় সন্দেহ হলে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে মেহেরপুরের গাংনীতে তার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা থাকার তথ্য পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের উপপরিদর্শক (এসআই) তারিক জানান, এম এ খালেক চিকিৎসার জন্য মেডিকেল ভিসায় ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় সন্দেহ দেখা দিলে তার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয় এবং মামলা থাকার তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল গাংনী থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ১৫(৩)/২৫ডি ধারায় একটি মামলা করা হয়। গাংনী থানার ওই মামলার নম্বর ১৫। সেই মামলায় এম এ খালেককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পরে মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল তাকে গাংনীর উদ্দেশে নিয়ে যায়।
এর আগে ২০২৫ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে করা একটি মামলায়ও এম এ খালেককে প্রধান আসামি করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই মামলায় ২৪ অক্টোবর তাকে গাংনী উপজেলা শহরের নিজ বাড়ি থেকে র্যাব গ্রেপ্তার করেছিল। পরে তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান।
তবে এম এ খালেকের ছেলে আসিফ রেজার দাবি, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং হৃদ্যন্ত্রে ব্লক রয়েছে। বাইপাস সার্জারির জন্য তাকে ভারতে নেওয়া হচ্ছিল। তার দাবি, বাবার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোতে তিনি জামিনে রয়েছেন।
এম এ খালেক মেহেরপুরের গাংনী বাজারের থানা রোড এলাকার বাসিন্দা। গ্রেপ্তারের পর তাকে মেহেরপুর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।