🏠︎ » উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ » অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সড়কমন্ত্রী

অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সড়কমন্ত্রী

অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে একবারে কঠোর পদক্ষেপ না নিয়ে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, অটোরিকশার সঙ্গে বহু মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িয়ে থাকায় বিদ্যমান সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডি লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। ধানমন্ডি ইয়ুথ ক্লাব এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, জাতীয় মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের সুযোগ নেই এবং সরকারও সেখানে অটোরিকশা চলাচলের পক্ষে নয়। অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে কোথায় অটোরিকশা চলতে পারবে এবং কোথায় পারবে না, সে বিষয়ে স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, হাইওয়ে পুলিশ ও সড়ক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে অটোরিকশা চলাচল নিয়ে একটি কার্যকর নীতিমালা তৈরি করা জরুরি। তবে কোনো নীতিমালার মাধ্যমেই জাতীয় মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিপুলসংখ্যক মানুষ অটোরিকশার ওপর নির্ভরশীল। তারাও সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এমন একটি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে, যাতে একদিকে সড়কের বিদ্যমান সমস্যার সমাধান হয়, অন্যদিকে সংশ্লিষ্টদের জীবন-জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নিতে গিয়ে যারা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন, তাদের সহযোগিতার বিষয়টিও দেখা হবে। অটোরিকশার সঙ্গে যুক্ত মানুষের জীবন-জীবিকাকে কীভাবে একটি নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে আনা যায়, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় অটোরিকশা চলাচল করলে এর জন্য জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকতে হবে। পাশাপাশি যারা অটোরিকশা চালাবেন, তাদের জন্য ন্যূনতম যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণের প্রয়োজন রয়েছে। এসব বিষয় নীতিমালার আওতায় এনে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

হাইওয়ে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘হাইওয়ে আমি বানাই, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং হাইওয়েতে চলাচলের জন্য যানবাহনের অনুমোদন নেই।’ তাঁর ভাষ্য, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হচ্ছে রাস্তা ও মহাসড়ক নির্মাণ, সংরক্ষণ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব কাজ তাৎক্ষণিকভাবে নেওয়া সম্ভব এবং সেভাবেই কাজ করা হচ্ছে।

তবে মহাসড়ক ব্যবস্থাপনায় একাধিক কর্তৃপক্ষ সম্পৃক্ত রয়েছে উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের কাজ করা হচ্ছে। কিন্তু পুরো হাইওয়ে ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলেই এর দায় তাঁর ওপর বর্তায়। অথচ তাঁর সম্পৃক্ততার ক্ষেত্র সীমিত এবং কাজ করার সুযোগও নির্দিষ্ট বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, মহাসড়কের সব ব্যবস্থাপনা বা যেসব ক্ষেত্রে অরাজকতা রয়েছে, সেগুলোর সমাধানের দায়িত্ব শুধু তাঁর মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এ বিষয়ে অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরেরও দায়িত্ব রয়েছে।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে শেখ রবিউল আলম ধানমন্ডি লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন এবং বৃক্ষরোপণ করেন।

ধানমন্ডি ইয়ুথ ক্লাবের সভাপতি ও ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শেখ খালিদ হাসান জ্যাকির সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্লাবের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ