🏠︎ » জাতীয় » ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে অমীমাংসিত ইস্যু দ্রুত সমাধানের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে অমীমাংসিত ইস্যু দ্রুত সমাধানের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও দীর্ঘস্থায়ী করতে অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টনসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ন্যায়সঙ্গত এবং উভয়ের কাছে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে সমাধান করা গেলে জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস আরও জোরদার হবে।

অভিন্ন নদ-নদীর পানির সঙ্গে দুই দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকা সরাসরি জড়িত উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি গঙ্গা ও তিস্তাসহ সব অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানান।

এর জবাবে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জানান, তাঁর সরকার এ বিষয়ে ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণের চেষ্টা করছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নিকটতম প্রতিবেশী হওয়ার পাশাপাশি ভারত বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার। ফলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখে।

রাষ্ট্রপতি আরও জানান, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় স্বার্থ, মর্যাদা এবং জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্মানজনক, ভবিষ্যতমুখী এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বার্থের ভিত্তিতে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে বাংলাদেশ আগ্রহী।

সাক্ষাৎকালে দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ভারত অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে ভারতের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

ভারতের হাইকমিশনার বলেন, পারস্পরিক মর্যাদা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও উন্নত করার বিষয়ে তাঁর দেশ আগ্রহী।

অভিনন্দন ও শুভেচ্ছার জন্য হাইকমিশনারকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রপতির প্রতিও তাঁর আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়ার জন্য দীনেশ ত্রিবেদীকে অনুরোধ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাণিজ্য, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, সংস্কৃতি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের জনগণের সক্ষমতা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অভিন্ন শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দীনেশ ত্রিবেদী ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ ও ভারত একসঙ্গে কাজ করে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তাঁর দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি ভারতের হাইকমিশনারের সফল কর্মকাল কামনা করেন। তাঁর দায়িত্বকাল দুই দেশের সম্পর্ককে আরও ইতিবাচক, ফলপ্রসূ ও জনকল্যাণমুখী করতে ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভারতীয় হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ