🏠︎ » রাজনীতি » ইবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের দিনেই ছাত্রলীগের নতুন কমিটি

ইবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের দিনেই ছাত্রলীগের নতুন কমিটি

ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিবিরের এক নেতাকে ছাত্রদলের এক কর্মীর চড় দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় জামায়াতের দুই কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনার মধ্যেই একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ২৮ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিনভর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা চলার পর রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়লী আসিফ ইনানের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির ঘোষণা দেওয়া হয়।

তিন মাসের আহ্বায়ক কমিটি

আগামী তিন মাসের জন্য ঘোষিত কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান হাফিজকে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কমিটির মেয়াদ শেষে সাংগঠনিক কার্যক্রম ও রাজনৈতিক সক্রিয়তা বিবেচনা করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।

কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন মো. মামুন-অর-রশিদ, আলহাজ আলী শ্রাবণ, তরিকুল ইসলাম তরুণ, রতন কুমার রায়, সামিউল ইসলাম, শাহিন আলম, মামুন রানা, সাব্বির আহমেদ আকিফ, রাব্বি হোসেন, নাছিম হাসান নাঈম, রাসেল আলী, রাকিবুল ইসলাম, সোহানুর রহমান, মেসবাহুল ইসলাম, নাবিল আহমেদ ইমন, মো. সাদিদ খান সাদি, হুসাইন তুষার, অনিক কুমার, সোহাগ শেখ, তানভীর হাসান, রাব্বি হাসান, আকিব মাসুদ, পিয়াস মুস্তাকিম, সাগর আহম্মেদ, মো. রাকিব হোসেন, শাহরিয়ার হিমেল ও পাভেল মোল্লা।

যেভাবে সংঘর্ষের সূত্রপাত

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার দুপুর ১টার দিকে কাজী জুহায়ের হলের করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় একটি কক্ষ থেকে বের হয়ে আলিনূর রহমান নামের এক ব্যক্তি শিবিরের এক নেতাকে চড় দেন। তবে কী কারণে তাকে চড় দেওয়া হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।

এরপর শিবিরের নেতাকর্মীরা অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মীকে তার কক্ষ থেকে বের করে আনতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ছাত্র-উপদেষ্টা ও হল প্রভোস্টের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

আলোচনার একপর্যায়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মীকে আনতে গেলে শিবিরের নেতাকর্মীরা উত্তেজনা সৃষ্টি করেন—এমন অভিযোগ তুলে ছাত্রদলের নেতারা সেখান থেকে বেরিয়ে যান। পরে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও কথাকাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্তকে উদ্ধারের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে শিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

প্রধান ফটকে অবস্থান, পরে সংঘর্ষ

পরবর্তীতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হল থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেন। সেখানে স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

এতে স্থানীয় জামায়াতের দুই কর্মী শহীদুল ও বাবলু আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়।

তদন্ত কমিটি গঠন

ঘটনার পর উভয় পক্ষকে নিয়ে প্রক্টর অফিসে বৈঠক করে প্রক্টরিয়াল বডি। বৈঠকে ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে সংঘটিত ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

পুলিশের বক্তব্য

কুষ্টিয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং পরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুনরায় উত্তেজনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ