নওগাঁর ধামইরহাটে কবর খুঁড়ে মরদেহের কঙ্কাল চুরির অভিযোগ উঠেছে নবম শ্রেণির এক স্কুলশিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। রাতের আঁধারে কবর থেকে কঙ্কাল চুরির এমন ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের পাশাপাশি উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের বড়শিবপুর কাজীপাড়া গ্রামে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী একই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে এবং কাজীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র সিয়াম হোসেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় সাত মাস আগে কাজীপাড়া এলাকায় মোখলেছুর রহমানকে দাফন করা হয়। সম্প্রতি তার কবরস্থানে গিয়ে স্থানীয়রা কবরের মাটি খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, কবর থেকে মরদেহের কঙ্কাল নেই।
ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর কবরস্থানে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়। স্পর্শকাতর এ ঘটনায় মৃত ব্যক্তির প্রতি সম্মান ও কবরের পবিত্রতা রক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নিহতের সন্তান ও জগদ্দল আদিবাসী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. ইলিয়াস হোসেনের দাবি, বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানের সময় ওই শিক্ষার্থীর নাম সামনে আসে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ শত শত মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক বৈঠকে সিয়াম নিজেই কঙ্কাল চুরির কথা স্বীকার করে। প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন আগে সে কবর থেকে কঙ্কালটি নিয়ে যায় বলেও জানান তিনি।
ইলিয়াস হোসেন বলেন, বাবার কঙ্কাল চুরির ঘটনায় তিনি স্থানীয়ভাবে সঠিক বিচার পাচ্ছেন না। প্রশাসনের মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও যথাযথ বিচার চান তিনি।
ঘটনার বিষয়ে জানতে জাহানপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মওদুদ আহমেদ মহিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। শুক্রবার দুপুরের গ্রাম্য বিচারে তিনি উপস্থিত ছিলেন কি না জানতে চাইলে ‘আমি কিছু জানি না’ বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিন্টু রহমান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।