🏠︎ » সারাদেশ » চট্টগ্রাম » ‘চিড়া-মুড়ি সঙ্গে নিয়ে ঢাকার সমাবেশে আসবেন’: জামায়াত আমির

‘চিড়া-মুড়ি সঙ্গে নিয়ে ঢাকার সমাবেশে আসবেন’: জামায়াত আমির

‘চিড়া-মুড়ি সঙ্গে নিয়ে ঢাকার সমাবেশে আসবেন। জুলাই সনদের সব গণদাবি আদায় করা হবে’—কুমিল্লায় এক পথসভায় এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, দুর্নীতি ও ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে জনগণের যেসব দাবি রয়েছে, সেগুলো আদায় করা হবে। দেশের মানুষ বর্তমানে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও সার সংকটে রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জামায়াত আমিরের ভাষ্য, সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর জনগণের দেওয়া গণরায় ভুলে গেছে। আন্দোলনের মাধ্যমে সেই গণরায় বাস্তবায়ন করা হবে। অন্যথায় সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামমুখী লং মার্চ উপলক্ষে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় ১১ দলীয় জোট আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সংসদে এমপি গয়েশ্বর চন্দ্রের দেওয়া বক্তব্য উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, দেশে মাদক ছড়িয়ে পড়েছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা দিয়ে মাদকের বড় চালান প্রবেশ করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে এবং দেশের যুবসমাজকে রক্ষা করতে হবে।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট দূর করা, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এই পথসভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।

পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ দাবি করেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই সরকারের পতন ঘটবে। তিনি বলেন, ২০২২ সালে শেখ হাসিনাকে এক কাপড়ে দেশ ছাড়তে হবে বলে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেটিই পরবর্তীতে বাস্তব হয়েছে। তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার দেখানো পথেই এগোচ্ছে। তার দাবি, শেখ হাসিনা মেগা প্রকল্পের নামে দেশকে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করেছেন। বর্তমান সরকার কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মামুনুল হক বলেন, তাদের আন্দোলনের লক্ষ্য সরকার পতন নয়; বরং জনগণের দেওয়া গণরায় বাস্তবায়ন করা।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেক মানুষ তিন বেলা খাবার জোগাড় করতে পারছেন না এবং লাখ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারাচ্ছেন। তার অভিযোগ, সরকার ১৮ কোটি মানুষের গণরায় বাস্তবায়ন করছে না।

বিদ্যুৎ বিলের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ১ হাজার ২০০ টাকার বিল বেড়ে ৪ হাজার টাকা হয়েছে। বিদ্যুৎমন্ত্রী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পেরে আইসিইউতে চলে গেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পথসভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, জামায়াত নেতা নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাছীর উদ্দিন পাটোয়ারী, এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

পরে নেতৃবৃন্দ সহস্রাধিক গাড়ির বহর নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করেন। পথে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সদরে আয়োজিত আরেকটি পথসভায় ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। সেখানে নেতৃবৃন্দকে স্বাগত জানান জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ