🏠︎ » সারাদেশ » ময়মনসিংহ » ঈশ্বরগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

ঈশ্বরগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

অভিযোগের পর দুই দিনে জমা ১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা, তদন্তে মিললো নানা অসঙ্গতি

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ধীতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল ফারুকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রাখাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে একাধিক অসঙ্গতির তথ্য উঠে এসেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ ব্যাংকে জমা, বিদ্যালয়ের ক্যাশ ও চেক রেজিস্টার সংরক্ষণ, একক সিদ্ধান্তে বিদ্যালয় পরিচালনা এবং পুরোনো স্থাপনা ভাঙা ও মালামাল বিক্রির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

সহকারী শিক্ষক ও কর্মচারীদের অভিযোগের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি সরেজমিন তদন্ত, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও কাগজপত্র পর্যালোচনা শেষে প্রতিবেদন দেয়। গত ২৭ আগস্ট উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে প্রধান শিক্ষক নিজের কাছে রাখতেন। এ অভিযোগের বিষয়ে ব্যাংক হিসাব ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে তদন্ত কমিটি দেখতে পায়, অভিযোগের পর বিদ্যালয়ের হিসাবে একাধিক টাকা জমা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনাস্থা দেয়ার পর তিনি ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ৯০ হাজার টাকা এবং ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ১ লাখ ৭ হাজার টাকা—মোট ১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। তদন্তে বিদ্যালয়ের আর্থিক লেনদেনের নথিপত্র নিয়েও অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাশ রেজিস্টার যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও তা একক স্বাক্ষরে পরিচালিত হয়েছে।

এ ছাড়া চেক ইস্যু রেজিস্টারও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৩ জুন ২০২৩ সালের পর চেক ইস্যু রেজিস্টারে আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তদন্তে আরও উঠে আসে, বিদ্যালয়ের দৈনিক আয়-ব্যয়ের রেজিস্টারসহ বিভিন্ন রেজিস্টার প্রধান শিক্ষক নিজের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করেন। আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে ব্যয় সম্পন্ন করার যে প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের তিনটি টিনশেড ঘর ও একটি পাকা ভবন নিলাম বা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া ভেঙে মালামাল ব্যবস্থাপনার অভিযোগও করা হয়।

তদন্ত কমিটির কাছে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক জানান, টিনশেড ঘরগুলোর একটি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের একটি পাকা ভবন রাস্তার ওপর থাকায় রাস্তা নির্মাণের সময় সেটি ভেঙে ফেলা হয় বলেও তিনি জানান। তাঁর দাবি, ভবনটি নিলামে বিক্রির জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে বিদ্যালয়ের মালামাল ও স্থাপনা বিক্রির ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন আয়-ব্যয়, কমিটির কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের একক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ তদন্ত কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়। এ ছাড়া অফিস সহকারীকে হিসাব সংরক্ষণের কাজে যথাযথভাবে সম্পৃক্ত না করার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণের কাজ প্রধান শিক্ষক নিজেই করতেন এবং পুনঃযাচাই না করে ফরম জমা দেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্ত কমিটির কাছে দেওয়া বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক আবুল ফারুক তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যাখ্যায় তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের সময় থেকেই বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অর্থ ও হিসাব ব্যবস্থাপনা নিয়ে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে কাজ করার বিষয় ছিল। কিছু অর্থ শিক্ষকদের বিভিন্ন ভাতা ও সম্মানীর সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়েও তিনি বক্তব্য দিয়েছেন।

তবে তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয় ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ সরাসরি ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা এবং যথাযথ অনুমোদন নিয়ে ব্যয় না করায় উদ্বেগ প্রকাশ করে।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদনটি আমি হাতে পেয়েছি। প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

আব্দুল মালেক || ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিবেদক ||

Noxoit Ads

আরও পড়ুন

সর্বশেষ