নেত্রকোনার মদনে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষায় মামলার অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরই বাবা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল কবীর রুবেল।
তিনি জানান, ডিএনএ প্রতিবেদনে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকই নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন। এদিন তাকে আদালতে হাজির করা হয় এবং প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মামলার বিচারকার্য শেষ করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে অভিযুক্ত শিক্ষক একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটির মা-বাবার বিচ্ছেদের পর সে নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। তার মা জীবিকার প্রয়োজনে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।
পরবর্তীতে শিশুটির শরীরে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে তার মা বিষয়টি জানতে পারেন। গত ১৮ এপ্রিল মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করালে চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা।
এরপর ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে ওই মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর আদালত অভিযুক্তের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।
শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ১২ মে আদালতের নির্দেশে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে ২ জুলাই সে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়।
পরে নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ৯ জুলাই পুলিশ আদালতে আবেদন করে। আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই সিলেটের একটি সেফ হোমে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডি।