🏠︎ » সারাদেশ » চট্টগ্রাম » লক্ষ্মীপুরে তীব্র গ্যাস সংকট, চুলায় আগুন নেই—সিএনজি পাম্পেও দীর্ঘ লাইন

লক্ষ্মীপুরে তীব্র গ্যাস সংকট, চুলায় আগুন নেই—সিএনজি পাম্পেও দীর্ঘ লাইন

লক্ষ্মীপুরে টানা এক মাস ধরে তীব্র গ্যাস সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকরা। কোথাও গ্যাস সরবরাহ একেবারেই নেই, আবার কোথাও সরবরাহ থাকলেও চাপ এত কম যে চুলা জ্বালিয়ে রান্না করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে গ্যাসচালিত অটোরিকশাগুলোও জ্বালানি সংকটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষা করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর শহরের শিশু পার্ক এলাকা, শাঁখারীপাড়া, মদিন উল্যাহ হাউজিং, মোবারক কলোনি, শিল্প কলোনি, বাগবাড়ী, বাঞ্চানগর ও মজুপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের সংকট চলছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে মাটির চুলা কিংবা এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছে। এতে বাড়তি খরচের বোঝা বহন করতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর শহরে প্রায় পাঁচ হাজার আবাসিক ও ৫০টি বাণিজ্যিক গ্যাস সংযোগ রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে দুটি সিএনজি গ্যাস স্টেশন। জেলায় প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ২০ থেকে ৪০ হাজার ঘনফুট।

গ্যাসের জন্য সিএনজি পাম্পে অটোরিকশা চালকদের দীর্ঘ লাইন

গ্যাসের সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা। প্রয়োজনীয় গ্যাস না পাওয়ায় গত ২ আগস্ট রাতে লক্ষ্মীপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বাঞ্চানগর এলাকার গৃহিণী রেহানা আক্তার বলেন, গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্নার কাজে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। অন্যদিকে সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন থাকায় পরিবহন খাতেও এর প্রভাব পড়ছে।

সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. রফিক বলেন, যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি গ্যাসের জন্যও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে আয় কমে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়তে হচ্ছে তাদের।

লক্ষ্মীপুর বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সহকারী প্রকৌশলী খোরশেদ আলম বলেন, এটি স্থানীয় কোনো সমস্যা নয়, বরং জাতীয় পর্যায়ের গ্যাস সংকট। চাহিদার তুলনায় অনেক কম গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। এর সঙ্গে সরবরাহের চাপও কম। তবে শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

Noxoit Ads

আরও পড়ুন

সর্বশেষ