🏠︎ » লাইফস্টাইল » আমার ছেলেরে আর মুফতি বানানো হইলো না’ লাশ নিতে এসে বাবার আহাজারি

আমার ছেলেরে আর মুফতি বানানো হইলো না’ লাশ নিতে এসে বাবার আহাজারি

মাজার জিয়ারত ও পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে আনন্দভ্রমণ শেষে বাড়ি ফেরার কথা ছিল কিশোরগঞ্জের সাইফুল ইসলাম ও মাদ্রাসাছাত্র আরমান হোসেন রাহিমের। কিন্তু শুক্রবার সকালে সিলেটের ওসমানীনগরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা। সন্তানকে হারিয়ে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকামুখী একটি বাসের সঙ্গে সিলেটগামী আরেকটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে একটি বাসের নয়জন যাত্রী নিহত হন। আহত হন আরও কয়েকজন।

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম পাঁচ বন্ধুর সঙ্গে মঙ্গলবার রাতে সিলেটে বেড়াতে যান। সেখানে তারা হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। পরদিন ভোলাগঞ্জের সাদাপাথরসহ কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখেন তারা।

বৃহস্পতিবার রাতে তাদের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। প্রথমে ট্রেনে ফেরার পরিকল্পনা থাকলেও পরে বাসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা। এ জন্য শাহপরান মাজার গেট এলাকা থেকে সকালের বাসের টিকিট সংগ্রহ করেন।

তাদের পাঁচজনের মধ্যে রানা ও জমরেদ বিমানে বাড়ি ফিরে যান। অন্যদিকে সাইফুল, ফাখরুল ইসলাম ফারুক ও মো. লতিফ বাসে করে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু পথেই ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

সাইফুলের বন্ধু লতিফ জানান, তাদের বাসে প্রায় ৩৬ জন যাত্রী ছিলেন। সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। মুহূর্তের মধ্যে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের জমিতে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার পর সাইফুলকে গুরুতর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন লতিফ। তার কপালের একটি অংশে গুরুতর আঘাত ছিল। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় ফাখরুল ইসলাম ফারুক আহত হন। তবে লতিফ তুলনামূলক কম আঘাত নিয়ে প্রাণে বেঁচে যান।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার দুপুরে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে ছেলের মরদেহ নিতে আসেন আরমান হোসেন রাহিমের বাবা রফিকুল ইসলাম। পেশায় রডমিস্ত্রি এই বাবা তখন শোকে বারবার ভেঙে পড়ছিলেন।

স্বজনদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে রফিকুল বলেন, ‘আমার ছেলে নাই! দুনিয়া ছাড়িয়া চলিয়া গেছে, আল্লাহ নিয়া গেছে। মসজিদের ইমাম সাহেবকে বলিয়েন। সকালে প্যান্ট-শার্ট পড়ে বের হইছিল, আর আমার ছেলে নাই। লাশ পাইছি।’

একপর্যায়ে ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বুক চাপড়ে বলেন, ‘আমার ছেলেরে আর মুফতি বানানো হইলো না।’

শোকে কাতর বাবার এই আহাজারিতে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পরে তাকে সান্ত্বনা দেন ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ