🏠︎ » সারাদেশ » ময়মনসিংহ » খাতায় শতভাগ উপস্থিতি, বাস্তবে ফাঁকা শ্রেণিকক্ষ

খাতায় শতভাগ উপস্থিতি, বাস্তবে ফাঁকা শ্রেণিকক্ষ

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সিংরইল ইউনিয়নের নারায়ণপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি ও উপবৃত্তি কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। খাতা-কলমে প্রায় শতভাগ উপস্থিতি দেখানো হলেও বাস্তবে অধিকাংশ সময় শ্রেণিকক্ষ থাকে প্রায় ফাঁকা। এমনকি উপবৃত্তিপ্রাপ্ত কয়েকজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে না গিয়ে নিয়মিত পাশের একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করছে বলেও অনুসন্ধানে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও উপস্থিত রয়েছে মাত্র চারজন শিক্ষার্থী। তারা শিশু ও দ্বিতীয় শ্রেণির। প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অন্য কোনো শ্রেণির শিক্ষার্থীর দেখা মেলেনি। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন দুই শিফট মিলিয়ে আট থেকে ১০ জনের বেশি শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসে না।

পরে পাশের মাদরাসায়ে দারুস সালামে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি ওই বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় নাম থাকা অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী সেখানে ক্লাস করছে। এছাড়া অনুসন্ধানে এমন চারজন শিক্ষার্থীর সন্ধান পাওয়া যায়, যারা জানায় তারা সরকারি বিদ্যালয়ে যায় না, তবুও নিয়মিত উপবৃত্তির টাকা পাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান হয় না এবং শ্রেণিকক্ষে বসার মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।

বিদ্যালয়ের নথি অনুযায়ী মোট শিক্ষার্থী ১২৩ জন। এর মধ্যে ৬১ জন সরকারি উপবৃত্তি পাচ্ছে। অথচ বাস্তব উপস্থিতি অত্যন্ত কম হওয়ায় উপবৃত্তি বিতরণ ও উপস্থিতির তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর অবস্থাও উদ্বেগজনক। তিনটি শ্রেণিকক্ষের দেয়াল ও ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ছে। দুটি কক্ষ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় একটি কক্ষের ১২টি বেঞ্চ দিয়েই পর্যায়ক্রমে পাঠদান চলছে। কয়েক বছর আগে শুরু হওয়া দ্বিতল ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো তা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার পরিবেশ না থাকায় তারা সন্তানদের অন্য স্কুল ও মাদরাসায় ভর্তি করাতে বাধ্য হয়েছেন।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সায়েম উদ্দিন শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির জন্য বৃষ্টিতে কাদাযুক্ত রাস্তার কথা উল্লেখ করেন। তবে উপস্থিতির খাতায় শতভাগ উপস্থিতি দেখানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। উপবৃত্তি দিতে গিয়ে একটু-আধটু এদিক-সেদিক করতে হয়।” তার এমন বক্তব্যে উপস্থিতি ও উপবৃত্তি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) সালমা বেগম বলেন, শিক্ষকরা প্রতিদিন হোয়াটসঅ্যাপে উপস্থিতির তথ্য পাঠান। বাস্তবে যদি ভিন্ন চিত্র হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নান্দাইল সংবাদদাতা (ময়মনসিংহ)

আরও পড়ুন

সর্বশেষ