চলতি বছরের সাত মাস ১৯ দিনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১২৩টি গুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫৯ জন এবং আহত হয়েছেন ১৪০ জন। সবচেয়ে বেশি গুলির ঘটনা ঘটেছে খুলনায়। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম ও ঢাকা।
রাজধানীর মিরপুরের ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকে গত ৭ আগস্ট বিকেলে চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন। এ সময় একটি প্রাইভেটকারে করে কয়েকজন দুর্বৃত্ত এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে আলমগীরসহ দুজন আহত হন।
এর দুই সপ্তাহ আগে ২৪ জুলাই রাতে মিরপুরের কাফরুলে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন ইউসুফ বেপারী নামে এক যুবদল কর্মী। ওই ঘটনায় আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হন।
তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সাত মাস ১৯ দিনে রাজধানীতে অন্তত ১৩টি গুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ছয়জন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে সারাদেশে আরও ১১০টি গুলির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে খুলনায় ৩৭টি, চট্টগ্রামে ২৮টি এবং ঢাকায় ১৩টি ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ বুধবার খুলনার লবণচরায় পৃথক ঘটনায় দুজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
আধিপত্য বিস্তারেই বেশি গুলি
মোট ১২৩টি গুলির ঘটনার মধ্যে ৫৫টির কারণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এক-পঞ্চমাংশের বেশি অর্থাৎ ১২টি ঘটনা ঘটেছে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। এর মধ্যে আটটি ঘটনা ছিল এলাকা বা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিরোধে। আরও চারটি ঘটনা ঘটে বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ বা বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে, যা মূলত আধিপত্য বিস্তারের সঙ্গেই সম্পর্কিত।
গত ২২ মার্চ চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সফরভাটা এলাকায় বিএনপি নেতা ওসমান গনির বাড়িতে ঢুকে দুর্বৃত্তরা গুলি চালায়। এতে ওসমান গনি ও তার মা গুলিবিদ্ধ হন। নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিরোধিতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় এ হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, ব্যক্তিগত বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার কারণে ১১টি গুলির ঘটনা ঘটেছে। চাঁদার দাবিতে বা চাঁদা না পেয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামে সাতটি ঘটনা ঘটে। অপরাধী চক্রের নিজেদের মধ্যকার বিরোধে চারটি, ছিনতাই-ডাকাতির সময় আটটি, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে তিনটি এবং মাদক ব্যবসা ও সেবন-সংক্রান্ত বিরোধে দুটি গুলির ঘটনা ঘটে। অবৈধ হরিণ শিকারের সময়ও একটি গুলির ঘটনা ঘটেছে।
বাকি সাতটি ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। এসব ঘটনার কয়েকটিতে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা হতাহত হলেও সেগুলো রাজনৈতিক বিরোধের কারণে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
২১ জেলায় নিহত ৫৯
খুলনা, চট্টগ্রাম, ঢাকা সহ ২১ জেলায় গুলির ঘটনায় ৫৯ জন নিহত এবং ১৪০ জন আহত হয়েছেন।
এর মধ্যে খুলনায় ১৫ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। চট্টগ্রামে নিহত হয়েছেন ১৩ জন এবং আহত ৩৭ জন। ঢাকায় ছয়জন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন।
নরসিংদীতে চারটি ঘটনায় ছয়জন, রাজশাহীতে পাঁচ ঘটনায় চারজন, কক্সবাজারে পাঁচ ঘটনায় চারজন, পাবনায় তিন ঘটনায় তিনজন, নাটোরে দুই ঘটনায় দুজন, যশোরে দুটি ঘটনায় দুজন এবং ফরিদপুরে দুটি ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া খাগড়াছড়ি, বাগেরহাট ও সিলেটে একটি করে গুলির ঘটনায় একজন করে নিহত হয়েছেন। এসব ১০ জেলায় গুলিতে আহত হয়েছেন ৩৯ জন। নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ, বরগুনা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ভোলা, বগুড়া ও কুমিল্লায় পৃথক গুলির ঘটনায় আরও ৩৫ জন আহত হয়েছেন।
অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন অপরাধী চক্র নানা উৎস থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে মজুত করেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে অপরাধীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
ওই সময় সীমান্তের চোরাপথে বিপুল অস্ত্র দেশে ঢোকে বলে অভিযোগ রয়েছে। আগে থেকেই অপরাধীদের হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি এসব অস্ত্রও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহৃত হয়েছে।
এ ছাড়া গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের কাছ থেকে লুট হওয়া অনেক অস্ত্রও অপরাধীদের হাতে চলে যায়। পুলিশের হিসাবে, ওই সময় বিভিন্ন ধরনের ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছিল। এর মধ্যে এখনো ১ হাজার ৩১১টি অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ফলে হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি ও চাঁদাবাজির পাশাপাশি সামান্য বিরোধেও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা দেখা যাচ্ছে।
পুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে গুলির ঘটনায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। হত্যা, ছিনতাই কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধ—যে ক্ষেত্রেই অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
তিন মাসে উদ্ধার ৩২৫ আগ্নেয়াস্ত্র
পুলিশ সদরদপ্তর সূত্র জানায়, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১ মে থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানে জুলাই পর্যন্ত তিন মাসে ৩২৫টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২ হাজার ৮০২টি গুলি ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১০১টি পিস্তল, ৩৫টি শুটারগান, ৩৮টি এলজি, ১৯টি রিভলবার, ৯২টি বন্দুক, ১৫টি পাইপগান, সাতটি শটগান, তিনটি রাইফেল, দুটি এসএমজি, ১২টি এয়ারগান ও একটি পেনগান।
একই সময়ে ১০৩টি ম্যাগাজিন, ৪৬টি ককটেল, সোয়া দুই কেজি গানপাউডার, ৬৩৮টি দেশীয় অস্ত্র, ১৮টি অস্ত্রের যন্ত্রাংশ, ১৭টি অস্ত্র ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং ১০ হাজার ৩০০টি চকলেট বোমা উদ্ধার করা হয়েছে।
গত বছর ২০২৫ সালে দেশে ২৫০ জনের বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হন এবং অন্তত ৮০ জন নিহত হন বলে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল।
আধিপত্যের লড়াইয়ে গুলি
গুলির ঘটনাগুলোর বড় একটি অংশের সঙ্গে স্থানীয় আধিপত্যের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। কোথাও এলাকা নিয়ন্ত্রণ, কোথাও দীর্ঘদিনের বিরোধ, আবার কোথাও নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার হয়েছে।
নরসিংদীর রায়পুরায় চলতি বছরে অন্তত তিনটি গুলির ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ জুন সকালে উপজেলার হরিপুর ও দড়িগাঁও এলাকায় সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন। তাদের মধ্যে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
একই উপজেলায় ৫ ফেব্রুয়ারি দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১৪ বছরের শিশু মোস্তাকিম নিহত হয়। সর্বশেষ ২ আগস্ট সওদাগরকান্দি এলাকায় সংঘর্ষে মোমেন মিয়া নামে এক কৃষক নিহত হন।
রায়পুরা থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, তিনটি ঘটনাই আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। রায়পুরার বড় একটি অংশ চর এলাকা হওয়ায় সেখানে মানুষ তুচ্ছ বিষয়েও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তবে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের শক্তি বাড়ানো ও প্রদর্শনের চেষ্টা করায় এসব ঘটনা বেশি ঘটছে বলে মনে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এলাকার অনেক মানুষ বিদেশে থাকেন। সংঘর্ষের সময় তারা বিদেশ থেকে নিজেদের পক্ষের লোকজনকে টাকা পাঠান। ফলে খরচ যতই হোক, নিজেদের পক্ষ যেন পরাজিত না হয় এমন মানসিকতা দেখা যায়।
আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে চলতি মাসে নরসিংদীর পলাশে গুলিতে আরও একজন নিহত হন। ১ আগস্ট রাতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন ছাত্রদল নেতা ইব্রাহীম মাসুম। ১০ আগস্ট ঢাকার একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
পাবনায় পদ্মার চরেও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গুলি চলে। ২৬ জুনের ওই ঘটনায় মঞ্জু শেখ নামে একজন নিহত হন। নাটোরের লালপুরে ৯ জুন আজিজুল হক ঝড়ুর গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় আধিপত্য বিস্তারের পাশাপাশি বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে।
৮ জুন রাজশাহীর মতিহারের মৌলভী বুধপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে চার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করে র্যাব।
খুলনায় সবচেয়ে বেশি গুলির ঘটনা প্রসঙ্গে মহানগর পুলিশ কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। ব্যক্তিগত বিরোধ, আধিপত্য বিস্তারসহ যেসব কারণে গুলির ঘটনা ঘটছে, সেগুলো শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ব্যবসায়িক বিরোধেও গুলির ঘটনা
ব্যবসায়িক স্বার্থের দ্বন্দ্বও গুলির অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ৭ জানুয়ারি স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বির নিহত হন। তদন্তের বরাত দিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, কারওয়ান বাজারের ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে তাকে হত্যা করা হয়।
৯ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ঝুট ব্যবসা নিয়ে সংঘর্ষে তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। একই মাসের ২৮ তারিখে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় একসময়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
তার ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন জানান, ঘটনার কিছুদিন আগে বছিলার পশুর হাটের ইজারা নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধের কথা টিটন জানিয়েছিলেন।
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর পশ্চিম সরল এলাকায় ৩১ জুলাই লবণমাঠ ও মাছের ঘের দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিতে জিল্লুর রহমান নামে এক যুবক নিহত হন।
চাঁদার দাবিতেও গুলি
চাঁদাবাজি-সংক্রান্ত ঘটনায় ঢাকা ও চট্টগ্রামে সাতটি গুলির ঘটনা ঘটেছে।
সর্বশেষ ১০ আগস্ট চট্টগ্রামের মুরাদপুরের হামজারবাগে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবিতে এক প্রবাসীর বাড়িতে গুলি ছোড়া হয়।
এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক এমপি মুজিবুর রহমানের চট্টগ্রামের চান্দনপুরার বাসায় চাঁদার দাবিতে গুলি করা হয়। একই দাবিতে ২ জানুয়ারিও ওই বাসায় গুলি চালানো হয়েছিল।
১৯ মে চাঁদা না দেওয়ায় রাজধানীর মতিঝিলে পশুর হাটের ইজারাদারের অফিসে গুলি চালানো হয়।
এর আগে ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর বাড্ডায় চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন একটি ভবনে গুলি ছোড়া হয়। বাড্ডা থানার ওসি কাজী মো. নাসিরুল আমীন জানিয়েছিলেন, চাঁদার দাবিতে দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। এতে কেউ হতাহত হয়নি।
পূর্বশত্রুতার জেরেও হামলা
রাজশাহীর বাঘায় ৩ জানুয়ারি বাড়িতে ঢুকে সোহেল রানা নামে একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আগের একটি হত্যাকাণ্ডের জের ধরে ওই হামলা চালানো হয়।
রাজশাহীর খোঁজাপুরে ১৪ ফেব্রুয়ারি নামাজে যাওয়ার পথে গোলাম মোস্তফাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ক্ষেত্রেও আগের বিরোধের জেরে হত্যার বিষয়টি তদন্তে উঠে আসে।
বাগেরহাটের চিতলমারীতে আমির হামজা এবং খুলনার তেরখাদায় নূর আলম হত্যার ঘটনাতেও স্থানীয় বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার তথ্য পাওয়া গেছে।
‘আইনি প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হতে হবে’
সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যক্তিগত বিরোধেও আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে। এতে বোঝা যায়, বিপুলসংখ্যক অবৈধ অস্ত্র অপরাধী ও অপরাধপ্রবণ মানুষের হাতে রয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের কাছ থেকে লুট হওয়া অনেক অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। সেগুলোও অপরাধীদের হাতে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেউ তাদের স্বার্থ বা ইচ্ছার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালেই গুলি চালানোর মতো ঘটনা ঘটছে।
তার ভাষায়, অভিযোগগুলো আগের মতোই আছে, শুধু মানুষ বদলেছে। অপরাধ থেমে নেই; বরং নতুন মানুষ যুক্ত হয়েছে। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বা গুলি করে অন্যদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে কেউ কেউ। আইনি, রাজনৈতিক বা সামাজিকভাবে তেমন বাধার মুখে না পড়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
ড. তৌহিদুল হক বলেন, এমন পরিস্থিতিতে আইনি প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে হবে। অপরাধীদের সামনে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে, যাতে তারা বুঝতে পারে অপরাধ করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।