🏠︎ » সারাদেশ » ময়মনসিংহ » ভবন নির্মাণ শেষ হলেও মূল ভবনে ফিরতে পারছে না স্কুলের শিক্ষার্থীরা

ভবন নির্মাণ শেষ হলেও মূল ভবনে ফিরতে পারছে না স্কুলের শিক্ষার্থীরা

ময়মনসিংহ নগরীর কাঁচিঝুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হলেও টয়লেট ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে এখনো পাঠদান শুরু করা যায়নি। ফলে প্রায় আড়াই বছর ধরে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের গোলকিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলছে কাঁচিঝুলি স্কুলের কার্যক্রম। দূরত্ব ও সময়ের ব্যবধানের কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যাও দিন দিন কমছে। দ্রুত সমস্যা সমাধান করে মূল ভবনে পাঠদান শুরুর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনসহ সদর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৮৫টি। এর মধ্যে ১১৪ নম্বর কাঁচিঝুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৫৯ সালে নগরীর হামিদউদ্দিন রোড এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়। পুরোনো ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি-৪-এর আওতায় নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এমএমআর এমএসজেবি নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এ কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৯৭ লাখ টাকা। একই বছরের নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও দুই দফা সময় বাড়ানো হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভবনটি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।

নতুন ভবন নির্মাণের কারণে বিদ্যালয়ের পাঠদান প্রায় এক কিলোমিটার দূরের গোলকিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। কাঁচিঝুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হয় সকাল ৮টায়, আর গোলকিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হয় দুপুর ১২টায়। দূরত্ব ও সময়ের এই ভিন্নতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে আগ্রহী নয়। এতে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি কমার পাশাপাশি শিক্ষার্থী সংখ্যাও কমছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

অভিভাবকদের অভিযোগ, নতুন ভবন নির্মাণ শেষ হলেও সেখানে টয়লেট ও সুপেয় পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এ কারণে মূল ভবনে পাঠদান শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। দূরে বিদ্যালয় হওয়ায় সন্তানদের যাতায়াতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে বলেও জানান তারা। একজন অভিভাবক বলেন, সন্তানকে বিদ্যালয়ে আনা-নেওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ৬০ টাকা খরচ হচ্ছে। দূরত্বের কারণে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসতেও চায় না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. মোমেনা খাতুন বলেন, ‘নতুন ভবনে এখনো টয়লেট ও পানির ব্যবস্থা নেই। বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কার্যকর সমাধান না হওয়ায় সেখানে পাঠদান শুরু করা যাচ্ছে না। দূরে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমছে এবং দিন দিন শিক্ষার্থী সংখ্যাও হ্রাস পাচ্ছে।’

এদিকে নতুন ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, নির্মাণকাজের সময় যথাযথভাবে পানি ব্যবহার করা হয়নি এবং দায়সারাভাবে কাজ করা হয়েছে। বাইরে রঙের কাজ করে ভবনটি আকর্ষণীয় করা হলেও ভেতরের কাজে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রোপ্রাইটর জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘নিয়ম মেনেই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পানির জন্য চৌবাচ্চা নির্মাণ করা হয়েছে এবং সেখান থেকেই পানি সরবরাহ করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, নির্মাণকাজ চলাকালে প্রধান শিক্ষককে নিয়মিত তদারকি করা উচিত ছিল।

সদর উপজেলা প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম বলেন, তিনি উপজেলায় যোগদানের পর কাঁচিঝুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের বিষয়টি নজরে আসে। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। ভবনের কাজ শেষ হয়েছে এবং যেকোনো সময় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তা হস্তান্তর করা হবে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এক সপ্তাহের মধ্যে ভবনটি হস্তান্তরের পাশাপাশি টয়লেট ও পানির সমস্যাসহ অন্যান্য বিষয় সমাধানে কাজ চলছে। আশা করছি, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই কাঁচিঝুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল ভবনে পাঠদান শুরু করা সম্ভব হবে।’

আরও পড়ুন

সর্বশেষ