ময়মনসিংহে নারী নির্যাতন ও যৌতুকের মামলায় কারাগারে রয়েছেন জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সাব্বির আহম্মেদ। তার বিরুদ্ধে জামালপুর আদালতে ধর্ষণের অভিযোগে আরও একটি মামলা রয়েছে। বর্তমানে ওই মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে।
সাব্বির আহম্মেদ জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে তিনি জামালপুর পূর্ব ছাত্রদলের আহ্বায়ক ছিলেন।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জামালপুর সদর উপজেলার শৈলার কান্দা গ্রামের আলাল উদ্দিনের ছেলে সাব্বির আহম্মেদ ২০২৩ সালে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা শহরের জান্নাতুল ফেরদৌসকে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে করেন। জান্নাতুল ফেরদৌস সরকারি চাকরিতে কর্মরত।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের কিছুদিন পর সাব্বির তার স্ত্রীর কাছে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। সংসারে শান্তির আশায় জান্নাতুল ফেরদৌস তাকে নগদ ১৫ লাখ টাকা দেন। বাকি টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে সাব্বির তাকে মারধর করেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জান্নাতুল ফেরদৌস ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় নারী নির্যাতন ও যৌতুকের মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্তের ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২২ জুলাই পুলিশ সাব্বির আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করে। আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে, মামলা চলাকালীন ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর সাব্বির তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসকে তালাক দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, তালাকের বিষয়টি গোপন রেখে পরবর্তী প্রায় আট মাস সাব্বির নিজেকে তার স্বামী পরিচয় দিয়ে জান্নাতকে তার বাড়ি ও জামালপুরের একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করেন।
বিষয়টি জানতে পেরে চলতি বছরের ১৬ জুন জামালপুর আদালতে সাব্বির আহম্মেদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন জান্নাতুল ফেরদৌস। মামলাটি বর্তমানে জামালপুর পিবিআই তদন্ত করছে।
এ ঘটনায় সম্প্রতি জামালপুরের নরুন্দী কলেজ মিলনায়তনে বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেখানে কোনো সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে।
জামালপুর পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জান্নাতুল ফেরদৌস নামে এক নারী সাব্বির আহম্মেদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেছেন। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।