মহানগর (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে অস্ত্র মামলায় আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। তিনি বলেন, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ১৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এসপি মাসুদ আলম বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়তে থাকায় ডেভিড ইমন সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করার পর যশোরের ঝিকরগাছা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারের পর ডেভিড ইমনকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং অস্ত্র আইনের মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হবে।
পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে অগ্রগতি আনতে ২২ জুলাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি সন্ত্রাসী চক্র, অস্ত্রের মজুদ এবং সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তদন্তে উঠে আসে, ধামা ইলিয়াছ কুখ্যাত সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ মোট ২১টি মামলা রয়েছে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে ২৯ জুলাই যশোরের কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। অভিযানে যশোর জেলা পুলিশও সহযোগিতা করে।
ডেভিড ইমন ছাড়াও গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মো. শামীম (২৮), মো. মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছ (৪৯), আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫) এবং মো. সাফায়েত হোসেন (২৪)।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের পাইট্রাল টিলাপাড়ায় একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। সেখান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং আরও কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এই সন্ত্রাসী চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস, অর্থায়নের ধরণ এবং অপরাধচক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক উদ্ঘাটনে তদন্ত চলমান রয়েছে।