কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নে জুতা হারানোকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বাড়িতে হামলার ঘটনায় মেহেদী হাসান সাকিব (২৭) নামে এক পশু চিকিৎসক নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় তাঁর বাবা ও দুই ভাইসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সাতডালিয়া পাড়ায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত সাকিব রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
নিহত মেহেদী হাসান সাকিব ওই এলাকার ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি পশু চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতেন।
পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৩ আগস্ট লবণ মাঠে কাজ করার সময় এক শ্রমিকের জুতা হারানোকে কেন্দ্র করে সাকিবের বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কয়েকজনের কথা-কাটাকাটি হয়।
এ সময় তাঁকে মারধর করা হয় বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সমাধান হয়নি। এর পর থেকেই বিরোধ আরও বাড়তে থাকে।
স্থানীয় একাধিক এলাকাবাসী জানান, শনিবার সকাল ৭টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাকিবদের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালান। এ সময় ঘরে ভাঙচুরের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের ওপরও হামলা করা হয়। এতে সাকিব, তাঁর বাবা ওয়াজ উদ্দিন (৬৫) এবং দুই ভাই আরফাত (১৮) ও মোশাররফ করিম (২১) আহত হন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিবেশী মো. তসলিম উদ্দিন বলেন, জুতা হারানোকে কেন্দ্র করেই প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যায়। একপর্যায়ে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাকিবদের বাড়িতে ঢুকে হামলা চালান।
হামলার পর সাকিবসহ কয়েকজনকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
তসলিম উদ্দিনের দাবি, হামলায় মো. কাইফু, ইমন, রোকন, জীবন, জিহান, বেলাল উদ্দিন ও হেলাল উদ্দিনসহ কয়েকজন জড়িত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কাইফু ও ইমন হামলায় নেতৃত্ব দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মাস্টার মাহমুদুল করিম বলেন, জুতা হারানোর মতো সামান্য একটি ঘটনা থেকে এমন হামলা ও মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।
শুরুতেই সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া দরকার।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকায় ইমনের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পেতেন। ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা,
ছিনতাই ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব মামলার বিষয়ে পুলিশের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, বদরখালীতে লবণ মাঠে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হামলায় কারা জড়িত ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।