🏠︎ » তথ্যপ্রযুক্তি » সাংবাদিকদের অ্যাক্টিভিস্ট নয়, তথ্যনির্ভর ও নিরপেক্ষ হওয়া উচিত: তথ্যমন্ত্রী

সাংবাদিকদের অ্যাক্টিভিস্ট নয়, তথ্যনির্ভর ও নিরপেক্ষ হওয়া উচিত: তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সময়ে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার রোধ করে জনগণকে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। তিনি মনে করেন, সাংবাদিকদের কোনো ধরনের অ্যাক্টিভিস্টের ভূমিকায় না গিয়ে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করা উচিত।

শনিবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত ‘দক্ষিণ এশিয়ার গণমাধ্যম কি ভিন্ন ভিন্ন রূপে একই ধরনের হুমকির সম্মুখীন হয়?’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স-২০২৬’-এর অংশ হিসেবে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালেটিকস (দায়রা) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতার নির্দিষ্ট কোনো একক সংজ্ঞা নেই এবং সময়ের সঙ্গে এর ধরন ও পরিসর বদলেছে। সমাজের বিভিন্ন বিষয়ে মানুষের মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিকের দায়িত্ব হলো ব্যক্তিগত আবেগ বা মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সত্য তথ্য তুলে ধরা।

তিনি আরও বলেন, নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত ছাড়া কোনো বিষয়কে সংবাদ বলা যায় না; সেক্ষেত্রে তা কেবল মতামত হিসেবেই বিবেচিত হবে। সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো বস্তুনিষ্ঠতা। অনুমান, মতামত বা অ্যাক্টিভিজম নয়, বরং যাচাইকৃত তথ্য ও ডেটার ভিত্তিতেই প্রকৃত সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠিত হয়।

দক্ষিণ এশিয়ার গণমাধ্যমের বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোর সংবাদমাধ্যম প্রায় একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আগে যেখানে বাকস্বাধীনতা ছিল আলোচনার প্রধান বিষয়, এখন প্রযুক্তিনির্ভর যুগে ভুয়া তথ্য ও অপতথ্য প্রতিরোধ করে জনগণকে বিভ্রান্তির হাত থেকে রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নেত্র নিউজের নির্বাহী সম্পাদক নাজমুল আহসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় হিমাল সাউথ এশিয়ানের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কনক মণি দীক্ষিত, ইংরেজি দৈনিক ওয়াদার-এর সম্পাদক শফিকুল আলম এবং ভারতের দ্য হিন্দু পত্রিকার কূটনৈতিক সম্পাদক সুহাসিনী হায়দার অংশ নেন।

একই দিনে রাজধানীর আরেকটি হোটেলে আয়োজিত ‘গ্লোবাল কনফারেন্স অন এআই লিডারশিপ অ্যান্ড ফ্ল্যাগশিপ প্রেস্টিজ অ্যাওয়ার্ডস’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকেও এগিয়ে যেতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করে কর্মদক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, এতদিন মানবজাতিই সভ্যতার অগ্রগতি কিংবা অবক্ষয়ের প্রধান নিয়ামক ছিল। কিন্তু এখন মানুষের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও ভবিষ্যৎ বিশ্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই এআই সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জন না করলে ভবিষ্যতে তা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি এআইকে প্রতিপক্ষ নয়, বরং উন্নয়নের সহযোগী হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ