🏠︎ » জাতীয় » আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে দিনাজপুরে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা

আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে দিনাজপুরে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা

দিনাজপুর প্রতিনিধি:
‘জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে প্রবীণ হিতৈষী সংঘ, দিনাজপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার আয়োজন করা হয়।

বুধবার (১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় দিনাজপুর ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়। র‌্যালির উদ্বোধন করেন দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম।

র‌্যালিতে বিভিন্ন বয়সী প্রবীণ ব্যক্তি, সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, সমাজসেবী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অংশগ্রহণকারীরা প্রবীণদের অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে সচেতনতার বার্তা তুলে ধরেন। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গিয়ে শেষ হয়।

পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ও দিনাজপুর পৌরসভার প্রশাসক (উপসচিব) শেখ হাফিজুর রহমান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রবীণ হিতৈষী সংঘ, দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি ডা. চৌধুরী মোসাদ্দেকুল ইজদানী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল মতিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সুমন রঞ্জন সরকার।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন শহর সমাজসেবা অফিসার মো. মাইনুল ইসলাম, জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মেহেদি হাসান, সরদার শফিকুল আলম বুলবুল, বিলকিস আরা ফয়েজ, আরমিনা হোসেন রুমু, ইশিতা আরফিন, দিনাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিফাত হাবিব ও রণজিত কুমার রায়।

প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তাজুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ইস্তিয়াকুল আলম প্রিন্স, জোবায়ের আলী জুয়েল ও ডা. মো. শহিদুল্লাহসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সাধারণ সম্পাদক একেএম মেহেরুল্লাহ বাদল।

র‌্যালির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রবীণরা সমাজের বোঝা নন, তারা অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও মূল্যবোধে সমৃদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদ। তাদের প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতার মনোভাব গড়ে তোলার পাশাপাশি মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রবীণদের আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসাসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা দিয়ে যারা পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে অবদান রেখেছেন, বার্ধক্যে তাদের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব।

প্রবীণদের কল্যাণে পৃথক ‘সিনিয়র সিটিজেন মন্ত্রণালয়’ গঠনের বিষয়ে সরকারের চিন্তা-ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রবীণদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং তাদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রবীণদের প্রতি দায়িত্ব শুধু পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; রাষ্ট্র ও সমাজেরও তাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করার দায়িত্ব রয়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক প্রবীণ একাকিত্ব, আর্থিক অনিশ্চয়তা, চিকিৎসা ব্যয় এবং পারিবারিক নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। তাই তাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, বিনোদন ও পারিবারিক সহায়তার সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় প্রবীণ হিতৈষী সংঘের পক্ষ থেকে ‘মমতাময়ী সম্মাননা’ প্রদান করা হয়। এ বছর সংঘের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তাজুল ইসলাম ও আরমিনা হোসেন রুমুকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী প্রবীণদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা হয়। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা প্রবীণদের বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত বিষয়ে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করা হয়।

আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন তোজাম্মেল হক। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে প্রবীণদের অংশগ্রহণ ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির মধ্য দিয়ে দিবসটির মূল বার্তা—প্রবীণদের সম্মান, নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা ফুটে ওঠে।

Noxoit Ads

আরও পড়ুন

সর্বশেষ