🏠︎ » সর্বশেষ » ধর্ম » কক্সবাজারের রামু সহিংসতার ১৪ বছর: বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় বাড়ছে হতাশা

কক্সবাজারের রামু সহিংসতার ১৪ বছর: বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় বাড়ছে হতাশা

রাতের আঁধারে কক্সবাজারের রামুর শত বছরের প্রাচীন বৌদ্ধবিহার ও বসতিতে এক ভয়াবহ হামলা ও তাণ্ডব চালায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও শেষ হয়নি সেই হামলার বিচারপ্রক্রিয়া। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলালেও বিচারের ধীরগতি নিয়ে স্থানীয় বৌদ্ধপল্লীর বাসিন্দাদের কাটেনি হতাশা।

সেদিন এক বৌদ্ধ যুবক, উত্তম বড়ুয়ার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ অবমাননার একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। হামলায় ধ্বংস করা হয় রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারসহ ১৮টি প্রাচীন বৌদ্ধবিহার ও বেশ কিছু বসতঘর। পুড়িয়ে দেওয়া হয় ঐতিহাসিক ধর্মীয় নিদর্শন।

কক্সবাজার বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের নেতা ও সীমা বিহারের প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু জানান, চোখের সামনে শতবছরের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য কীভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল, তা এখনও তাদের স্মৃতিতে অম্লান। বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে সাক্ষীদের আগ্রহ কমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘটনার ১৪ বছর অতি দীর্ঘ সময়। স্থানীয়দের আস্থা ফেরাতে দ্রুততম সময়ে এই বিচার কাজ সম্পন্ন করা জরুরি।

কক্সবাজার-৩ (সদর ও রামু) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল মনে করেন, বিগত সময়ে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিকভাবে অনেক নির্দোষ মানুষকে হয়রানি করা হয়েছিল। ঘটনার সঠিক সত্য তুলে আনতে এবং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে তিনি পুরো মামলাটির পুনঃতদন্তের দাবি জানান।

মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোহাম্মদ ইউনুছ জানান, সাক্ষীদের অনাগ্রহ বা আদালতে না আসার কারণেই মূলত রায় ঘোষণায় বিলম্ব হচ্ছে। সরকারপক্ষের চেষ্টা রয়েছে দ্রুত সময়ের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা।

উল্লেখ্য, রামুর বৌদ্ধবিহার ও বসতিতে তাণ্ডবের ঘটনায় ৩৭৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার ১৮২ জনের বিরুদ্ধে মোট ১৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তীতে একটি বাদীর আবেদনে প্রত্যাহার করা হয়। বাকি ১৮টি মামলায় পুলি↑ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বর্তমানে এসব আসামিরা সবাই জামিনে রয়েছে।

এদিকে, যে ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরে রামুর এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়েছিল, সেই উত্তম বড়ুয়া বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে ফ্রান্সে বসবাস করছেন।

Noxoit Ads

আরও পড়ুন

সর্বশেষ