কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আবেদনকারীদের কয়েকজনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, বিদ্যমান ডিলারশিপের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক, চাকরির তথ্য এবং পূর্বের মামলা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ ও তথ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে ডিলার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খুনিয়াপালং ইউনিয়নে সার ডিলার হওয়ার জন্য মোট ১৯ জন আবেদন করেছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন আবেদনকারীকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ ও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একজন আবেদনকারী একটি এমপিওভুক্ত উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মচারী সার ডিলারশিপের জন্য যোগ্য কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই করার বিষয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
আরেক আবেদনকারীর বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি হত্যা মামলায় আসামি থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে মামলাটির বর্তমান অবস্থা এবং তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের আইনগত অবস্থান সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এ ছাড়া মোস্তাক আহমদের মালিকানাধীন মেসার্স মোস্তাক কৃষি বিতান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, তাঁর নামে ইতোমধ্যে একটি ওয়ার্ডভিত্তিক সার ডিলারশিপ রয়েছে। এখন নতুন নামে ‘আরমান স্টোর’ থেকে আরেকটি ডিলারশিপ নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। একই ব্যক্তি বা পরিবারের নামে একাধিক ডিলারশিপের সুযোগ রয়েছে কি না, সেটি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
অন্যদিকে বোরহান উদ্দিনের মালিকানাধীন মেসার্স নীল ঢেউ ট্রেডিং নিয়েও স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, বোরহান উদ্দিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং তাঁর শ্বশুর জসিম উদ্দিন ভুলুর নামে একটি সার ডিলারশিপ রয়েছে। একই পরিবারের সদস্যদের একাধিক ডিলারশিপ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সার ডিলার নিয়োগে একটি প্রভাবশালী মহল সক্রিয় রয়েছে। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আবেদনকারীদের যোগ্যতা, গুদামের সক্ষমতা, আর্থিক সামর্থ্য, পারিবারিক সম্পর্ক এবং পূর্বের ডিলারশিপ-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সিন্ডিকেট বা প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে স্থানীয়দের করা অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। যাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। ফলে এসব বিষয়কে আপাতত অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করার বিধান রয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫ এবং পরবর্তীতে সংশোধিত নীতিমালা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের ৩০ আগস্ট নীতিমালা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত নির্দেশনাও প্রকাশ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ১৯ আবেদনকারীর ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব, গুদামের ধারণক্ষমতা ও অবস্থান, আর্থিক সক্ষমতা, চাকরির তথ্য, পূর্বের ডিলারশিপ, পারিবারিক সম্পর্ক এবং প্রযোজ্য কোনো অযোগ্যতা রয়েছে কি না—এসব বিষয় নথিপত্রের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে এবং সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত যোগ্য আবেদনকারীরাই ডিলারশিপের সুযোগ পাবেন।