🏠︎ » বিশ্ব » ৪৮ ঘণ্টায় কলকাতায় ২২১ হোটেল বন্ধ, বিপাকে ৭ হাজার বাংলাদেশি পর্যটক

৪৮ ঘণ্টায় কলকাতায় ২২১ হোটেল বন্ধ, বিপাকে ৭ হাজার বাংলাদেশি পর্যটক

কলকাতার নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানার অভিযোগে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় ২২১টি হোটেল ও ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় অবস্থানরত হাজারো বাংলাদেশি পর্যটক চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সম্প্রতি মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাইয়ে অভিযান শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, অনেক প্রতিষ্ঠানের ফায়ার লাইসেন্স, ফায়ার অডিট, পুলিশ অনুমতি, অগ্নিসংকেত ব্যবস্থা কিংবা জরুরি বহির্গমন সিঁড়ির মতো প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই।

গত শনিবার থেকে টানা ৪৮ ঘণ্টার অভিযানে মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিটসহ নিউমার্কেট এলাকার বিভিন্ন হোটেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

এর আগে রাজ্য সরকার কলকাতার প্রায় সাড়ে তিন হাজার হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়। কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পৌরসভা, দমকল বিভাগ ও সিইএসসির সমন্বয়ে কমিটিটি কাজ করবে।

বিপাকে ৭ হাজার বাংলাদেশি

হোটেল বন্ধের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন নিউমার্কেট এলাকায় থাকা বাংলাদেশি পর্যটকরা। বর্তমানে কলকাতায় প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি পর্যটক অবস্থান করছেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। এর মধ্যে প্রায় ৭ হাজার পর্যটক নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকায় রয়েছেন।

হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেউ নতুন করে থাকার জায়গা খুঁজছেন, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নতুন হোটেল পাওয়া গেলেও অনেক ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে। কোনো কোনো হোটেলে ভাড়া দেড় থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কলকাতার পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নির্ভর করে নিউমার্কেট এলাকায় হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, কেনাকাটা ও অন্যান্য ব্যবসা গড়ে উঠেছে। হোটেল বন্ধের প্রভাব এসব ব্যবসাতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

গ্রীন লাইন পরিবহনের শ্যামল ঘোষ বলেন, সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশি পর্যটকদের বাসগুলো প্রায় পূর্ণ অবস্থায় কলকাতায় আসছে। কিন্তু হঠাৎ করে বিপুলসংখ্যক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের থাকার ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। আশপাশের এলাকায় হোটেল খুঁজে যেতে হচ্ছে অনেককে, যেখানে ভাড়াও বেড়ে গেছে।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানা হোটেল ও রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

‘শিখা ইন’ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯

এর আগে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ১৫জি মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ওই ঘটনায় ৯ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি এবং দুজন ভারতীয় নাগরিক।

নিহত বাংলাদেশিরা হলেন—আকরাম আলী (৭৪), দেবাশীষ দত্ত (৩৯), আফসানা শিরমিন (২৭), সর্নাশীষ দত্ত (২), বাবু আহমেদ (৩৭), রেবতী সরকার ও এস. এম. আলিমুজ্জামান।

নিহত দুই ভারতীয় নাগরিক হলেন ঝাড়খণ্ডের সন্দীপ পাশওয়ান (১৯) এবং শিলিগুড়ির যোগ নারায়ণ আগরওয়াল (৬৮)।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ