🏠︎ » সারাদেশ » ময়মনসিংহ » ময়মনসিংহে গ্যাস সংকটে ২০ শিল্পকারখানায় ছুটি ঘোষণা

ময়মনসিংহে গ্যাস সংকটে ২০ শিল্পকারখানায় ছুটি ঘোষণা

তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে ময়মনসিংহের ২০টি শিল্পকারখানার শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেওয়ার পর বিকেলে তাদের ছুটি দেওয়া হয়। শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শিল্প পুলিশ-৫-এর পুলিশ সুপার মো. আনছার উদ্দিন বলেন, সকাল থেকে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। গ্যাসের অভাবে শ্রমিকরা কারখানায় এলেও ২০টি কারখানার শ্রমিকদের দুপুরের খাবারের সময় পর্যন্ত ধাপে ধাপে ছুটি দিতে হয়েছে। অন্য কারখানাগুলোতেও উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ভালুকা পৌর এলাকা ও গ্যাস অফিসের আশপাশের কিছু কারখানায় গ্যাসের চাপ থাকলেও দূরবর্তী কারখানাগুলোতে চাপ একেবারেই কমে গেছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।
শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলে মোট ২৯৩টি শিল্পকারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ৯৯টি কারখানা গ্যাসনির্ভর। বর্তমানে এসব কারখানার প্রায় প্রতিটিই গ্যাস সংকটে ভুগছে।

শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার গোপীনাথ কাঞ্জিলাল বলেন, সকাল থেকেই গ্যাসের চাপ কমতে শুরু করে। সাধারণত কারখানাগুলো বিকেল ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত চলে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় দুপুরের খাবারের সময় মাহাদি সোয়েটার্স লিমিটেড, সুলতানা সোয়েটার্স, লিজ ফ্যাশন, টিএম টেক্সটাইল, ত্রিশাল টেক্সটাইল, বিএসপি স্পিনিং মিলসহ ২০টি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়।

শিল্প পুলিশের তালিকা অনুযায়ী, গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিলগুলো। গৌরীপুরের টয়ো স্পিনিং মিলসে ৫০টি মেশিনের মধ্যে ৪৩টি বন্ধ রয়েছে। মাত্র সাতটি মেশিন পিডিবির বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চালু রাখা হয়েছে।
ভালুকার সীমা স্পিনিং মিলসে গ্যাস সংকটের কারণে ৩০টি মেশিন বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছ।
বাশার স্পিনিং, নরটেক্স টেক্সটাইল ও ডেল্টা স্পিনার্সেও উৎপাদন ৫০ শতাংশ বা তার বেশি কমেছে। এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইলে স্বাভাবিক গ্যাসের চাপ না থাকায় ৪০ শতাংশ মেশিন অচল হয়ে পড়েছে। সিরামিক খাতের এক্সিলেন্ট সিরামিকসে ফার্নেস বন্ধ থাকায় উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।

এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইলের শ্রমিক রহিমা আক্তার বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে কাজ অনেক কমে গেছে। সব মেশিন একসঙ্গে চলছে না। বাসাবাড়িতেও গ্যাস সংকট থাকায় রান্নাবান্নায় সমস্যা হচ্ছে।
ভালুকার গ্লোরি টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলসের ইউটিলিটি বিভাগের ব্যবস্থাপক সোহেল আহাম্মেদ বলেন, প্রায় দেড় থেকে দুই মাস ধরে গ্যাসের চাপ কম। কারখানায় ১৫ পিএসআই চাপ প্রয়োজন হলেও পাওয়া যাচ্ছে ১১ থেকে ১২ পিএসআই। এতে উৎপাদন ৩-৪ শতাংশ কমেছে।

গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ময়মনসিংহের ভালুকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (সিস্টেম অপারেশন) শামীম হোসেন বলেন, ‘ভালুকা এলাকায় ১৪০ ও ৫০ পিএসআইয়ের দুটি পৃথক লাইনে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে সেখানে ৩০-৫০ পিএসআই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। সরবরাহ কম পাওয়ায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেই সরবরাহ ব্যবস্থা চালিয়ে নিতে হচ্ছে।ঠে এসেছে। এক বছরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৫ দশমিক ২৯ শতাংশ, খোলা সয়াবিন ১২ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং পাম তেল ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে গরুর মাংস, ব্রয়লার মুরগি, ডিম ও গুঁড়া দুধের দামও বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল্যস্ফীতি কমলেও বাজারে স্বস্তি ফিরছে না। বাজার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, সরবরাহ ব্যবস্থার নানা স্তরের মধ্যস্বত্বভোগী ও দুর্বল নজরদারির কারণে ভোক্তাদের ওপর চাপ থাকছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, চালসহ শস্যের দাম স্থিতিশীল থাকায় খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার কমেছে। তবে স্বস্তির জন্য খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও কমিয়ে ২ থেকে ৩ শতাংশের মধ্যে আনতে হবে। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করার ওপরও জোর দেন তিনি।

বাজার বিশ্লেষক গোলাম রহমান বলেন, পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। মধ্যস্বত্বভোগীর সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি আমদানিনির্ভর পণ্যে প্রতিযোগিতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত পরিবহন খরচ বন্ধ করা জরুরি।

ক্যাবের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, মূল্যস্ফীতি কমার পরিসংখ্যানের সঙ্গে বাজারের বাস্তব চিত্র মিলছে না। প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল না হলে কাগজে-কলমে মূল্যস্ফীতি কমলেও মানুষের বাজারের তালিকা আরও ছোট হবে, আর খরচের হিসাব বড় হতে থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ