মাদারীপুরের শিবচরে চব্বিশের জুলাই-আগস্ট ছাত্র হত্যা মামলার আসামিদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে উপজেলার কুতুবপুর বাজারে এই সভা হয়। সভায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়সভায় উপস্থিত ছিলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য আজাহার হাওলাদার (যিনি সম্প্রতি গাড়ি পোড়ানো ও ছাত্র হত্যা মামলায় কারাদণ্ড ভোগ করেছেন), ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সামাদ মাদবর সামুসহ শিবচর থানার তদন্ত ওসি রাকিবুল হাসান, পরিদর্শক রিয়াজুর ইসলাম ও ফরহাদ লস্কর।
এই সভা স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বাকাউল বিল্লাহ বকুল জমাদ্দার বলেন, “দীর্ঘ সতেরো বছর দলীয় কার্যক্রম চালানোর কারণে এলাকায় থাকতে পারিনি। কুতুবপুর বাজারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে মতবিনিময় সভা করেছে, সেখানে চব্বিশের জুলাইয়ের ছাত্র হত্যা মামলার আসামিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সদস্য। আমাদের এ বিষয়ে আগে কোনো কিছু জানানো হয়নি। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি আজিজুল মোড়ল বলেন, “ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ভেবেছিলাম দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পরও তাদের কর্মীরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। তাদের নিয়েই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মতবিনিময় সভা করছে। যাদের জেলে থাকার কথা, তারা এখন পুলিশের সঙ্গে বসে মিটিং করছে। সাধারণ মানুষের জায়গায় বসে আছে ফ্যাসিবাদীরা।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, “মতবিনিময় সভায় ছাত্র হত্যা মামলার আসামিদের উপস্থিতি খুবই লজ্জাজনক। শিবচর থানা থেকে যারা গিয়েছিলেন, তারা দুজনেই নতুন। একজন তদন্ত ওসি রাকিবুল হাসান, যিনি থানায় নতুন যোগ দিয়েছেন। অপরজন কুতুবপুরের নতুন বিট অফিসার রিয়াজুর রহমান, যাকে কয়েকদিন আগে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমি দেখছি।