🏠︎ » বাংলাদেশ » কৃষি » কৃষক কার্ড থেকে পিংক বাস-সরকারের জনমুখী উদ্যোগ নিয়ে ময়মনসিংহে তথ্য অফিসের প্রেস ব্রিফিং

কৃষক কার্ড থেকে পিংক বাস-সরকারের জনমুখী উদ্যোগ নিয়ে ময়মনসিংহে তথ্য অফিসের প্রেস ব্রিফিং

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন অগ্রাধিকার কর্মসূচির জনমুখী সুবিধা ও কার্যকারিতা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরতে ময়মনসিংহে প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেছে জেলা তথ্য অফিস।
মঙ্গলবার বিকেলে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ ব্রিফিংয়ে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের অধীন জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক মীর আকরাম উদ্দীন আহম্মদ সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা এসব কর্মসূচির সুফল ও তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিলে আরও বেশি মানুষ উপকৃত হওয়ার সুযোগ পাবেন।


ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক তথ্য অফিস, ময়মনসিংহের উপপ্রধান তথ্য অফিসার (রুটিন দায়িত্ব) মো. মাসুদ মিয়া এবং জেলা তথ্য অফিসের সহকারী পরিচালক আফসানা ফেরদৌস মিষ্টি। এছাড়া ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ কাইয়ূমসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের জন্য সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচি বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে সাংবাদিকরা স্বতঃস্ফূর্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন এবং তথ্য অফিসের কার্যক্রমের পরিধি আরও বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেন।


জেলা তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা মোট ১০ ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, সহজে কৃষি উপকরণ প্রাপ্তি, ভর্তুকি মূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে কৃষিঋণ, স্বল্প মূল্যে আধুনিক কৃষিযন্ত্র ক্রয় ও ব্যবহারের সুযোগ, কৃষি বীমা, পণ্য বিপণন সুবিধা, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য প্রাপ্তি, পরিচয়ের স্বীকৃতি এবং কৃষি খাতে স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি হ্রাস।
কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচি সম্পর্কে জানানো হয়, সরকার শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল ঋণের পাশাপাশি অর্জিত সব ধরনের সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর ফলে দেশের প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন।


ফ্যামিলি কার্ডকে বর্তমান সরকারের একটি ডিজিটাল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, এর মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো প্রতি মাসে সরাসরি নগদ আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে এবং টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছে।


খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির বিষয়ে পরিচালক মীর আকরাম উদ্দীন আহম্মদ বলেন, এটি পরিবেশ ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে বহুমুখী উপকার বয়ে আনে। শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বর্ষায় জলাবদ্ধতা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সমৃদ্ধকরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে মাছ চাষ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্পর্কে ব্রিফিংয়ে বলা হয়, মানুষ ও প্রাণিকুলের অস্তিত্ব, বিশুদ্ধ পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব অপরিসীম। গাছ অক্সিজেন সরবরাহ করে, ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং খাদ্য, কাঠ ও ওষুধের মতো প্রয়োজনীয় সম্পদ প্রদান করে। পাশাপাশি ভূমিক্ষয় রোধ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায়ও বৃক্ষরোপণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।


নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকার সম্পূর্ণ নারী পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ‘পিংক বাস সার্ভিস’ (ইলেকট্রিক বাস) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে এ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বাসের চালক, হেল্পার ও সুপারভাইজার—সবাই নারী হবেন। নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার পাশাপাশি গাড়ি চালনা খাতে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যেই সরকার এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ