🏠︎ » সারাদেশ » ময়মনসিংহ » গ্যাসসংকটে ২৬ দিন ধরে বন্ধ ময়মনসিংহের ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র,পরিচালক দায় দিলেন ড. ইউনূসের!

গ্যাসসংকটে ২৬ দিন ধরে বন্ধ ময়মনসিংহের ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র,পরিচালক দায় দিলেন ড. ইউনূসের!

গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে অবস্থিত রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিসিএল) ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি টানা ২৬ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি ময়মনসিংহ অঞ্চলের আরও দুটি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতাও অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে। এতে ময়মনসিংহ বিভাগজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়ে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বেড়েছে।

আরপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এইচ এম রাশেদ এই পরিস্থিতির জন্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়ী করেছেন।

আরপিসিএল সূত্রের বরাতে একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২১০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সরবরাহে সংকট থাকায় কেন্দ্রটির প্রকৃত উৎপাদন ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে।

কেন্দ্রটির কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২১০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরেই সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৩৫ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছিল। ২০২২-২৩ অর্থবছরে কেন্দ্রটির প্লান্ট ফ্যাক্টর ছিল ৪৫ শতাংশ। তার আগের অর্থবছরে এই হার ছিল ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে।

তবে বর্তমানে গ্যাসের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় গত ২৬ দিন ধরে কেন্দ্রটি থেকে কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না।

আরপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এইচ এম রাশেদ রবিবার জানান, গ্যাসসংকটের কারণেই ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে কেন্দ্রটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে বলেও তিনি জানান।

বাড়ছে লোডশেডিং, ভোগান্তিতে মানুষ

বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ থাকার প্রভাব পড়েছে পুরো ময়মনসিংহ বিভাগের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। ময়মনসিংহ শহরেও দিনের বিভিন্ন সময়ে কয়েক ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে।

ময়মনসিংহ নগরীর বলাশপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক বেঙ্গল প্রতিদিন-কে জানান, দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে তাদের। তার ভাষ্য, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর অনেক সময় তিন থেকে চার ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সরবরাহ পাওয়া যায় না। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে ঘুমানো এবং সন্তানদের পড়াশোনা করানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

নগরের মাল গুদাম এলাকার একজন উদ্যোক্তা কাজী শহিদুল ইসলাম সুজন বেঙ্গল প্রতিদিন-কে জানান, দিন-রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ব্যবসার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে কাজ করা সম্ভব হয় না। এর সঙ্গে বাসাবাড়িতে গ্যাসের সংকট থাকায় রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ থাকা এবং একই সঙ্গে গ্যাস সরবরাহের সংকটের কারণে ময়মনসিংহে পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ