🏠︎ » সারাদেশ » বরিশাল » ১৬ বছর পর কলেজের তালা খুলল, অধ্যক্ষের পদ নিয়ে দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব

১৬ বছর পর কলেজের তালা খুলল, অধ্যক্ষের পদ নিয়ে দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় অধ্যক্ষের পদ নিয়ে দুই সহোদর ভাইয়ের দীর্ঘদিনের বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমার জেরে ১৬ বছর ধরে বন্ধ থাকা কবি নজরুল ইসলাম বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত কলেজটির অফিস কক্ষের দুটি এবং একটি শ্রেণিকক্ষের তালা ভেঙে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করেন অধ্যক্ষের পদ দাবি করা আসাদুজ্জামান টুলু। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিনের মামলা শেষে আদালতের রায় পাওয়ার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় কলেজটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন।

জানা গেছে, ২০০৪ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সমর্থিত জাতীয় সংসদের হুইপ সৈয়দ শহিদুল হক জামাল প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন। ২০১০ সালে কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। এরপর অধ্যক্ষের পদ নিয়ে দুই সহোদর বড় ভাই কামরুজ্জামান ও ছোট ভাই আসাদুজ্জামান টুলুর মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। দুজনই অধ্যক্ষের দায়িত্ব দাবি করে মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের এ বিরোধের কারণে কলেজটির স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

আসাদুজ্জামান টুলুর দাবি, কলেজ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই তিনি অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার বড় ভাই কামরুজ্জামান তখন কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি মাস্টার্স পাসের সনদ দেখিয়ে অধ্যক্ষের পদ দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন টুলু। ওই সনদ জাল প্রমাণিত হওয়ায় তার ভাইকে জেল ও জরিমানা ভোগ করতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

টুলু বলেন, দীর্ঘদিন মামলা পরিচালনার পর তিনি আদালতের রায় পেয়েছেন। এরপর স্থানীয়রা তাকে কলেজটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে খবর দেন। সেই অনুযায়ী বৃহস্পতিবার স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করেন।

কলেজের ভূমিদাতা পরিবারের সদস্য শরীফ মো. মাসুদ পারভেজ জানান, তার দাদা মরহুম আব্দুল হাকিম শরীফ কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দান করেছিলেন। রাজনৈতিক বিরোধ ও দুই ভাইয়ের অধ্যক্ষ পদ নিয়ে মামলা-মোকদ্দমার কারণে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। একাধিকবার কলেজটি চালুর চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। ছোট ভাই আদালতের রায় পেয়েছেন—এমন দাবি পাওয়ার পর কলেজটি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কলেজটির ইংরেজি শিক্ষক সুশোভন তালুকদার বলেন, তিনি ২০০৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন। সে সময় আসাদুজ্জামান টুলু অধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন। তার ভাষ্য, বড় ভাই কামরুজ্জামানের মামলার বিপরীতে দুইবার আসাদুজ্জামানের পক্ষে আদালতের রায় হয়েছিল। তিনি দ্রুত প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানান।

অন্যদিকে, কামরুজ্জামান বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকলেও এখান থেকে প্রতিবছর শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। চলতি বছরও ২৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। বিভিন্ন সমস্যার কারণে স্থানীয়রা কলেজে তালা দিয়ে রেখেছিলেন। আদালতের রায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের শিল্প বিষয়ক সম্পাদক নুরুল আলম বিপ্লব বলেন, তৎকালীন বিএনপি সমর্থিত হুইপ সৈয়দ শহিদুল হক জামাল কলেজটির উদ্বোধন করায় পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রতিষ্ঠানটি স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হতে পারেনি বলে তিনি মনে করেন। এর সঙ্গে দুই ভাইয়ের অধ্যক্ষ পদ নিয়ে মামলা-মোকদ্দমার কারণে কলেজটি দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। আদালতের রায়ের পর বৃহস্পতিবার পুনরায় কলেজ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় কলেজের অবকাঠামো, কম্পিউটার ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত বলেন, কলেজটি চালুর জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও দুই ভাইয়ের মামলা জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। দুজনই অধ্যক্ষের দাবি করে আসছিলেন। তবে আদালতের রায়ের বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।

এদিকে দীর্ঘ ১৬ বছর পর কলেজের তালা খোলায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিক হবে—এমন প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ