🏠︎ » সারাদেশ » চট্টগ্রাম » ‘আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে’: প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিএনপি এমপির ক্ষোভ

‘আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে’: প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিএনপি এমপির ক্ষোভ

লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামনে দেশের জন্য ‘ঘোর অন্ধকার’ অপেক্ষা করছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সাম্প্রতিক দীর্ঘ যানজটের কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগের প্রসঙ্গ তুলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

শাহাদাত হোসেন সেলিমের অভিযোগ, প্রশাসনের একটি প্রভাবশালী অংশ সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, এই দায়িত্বজ্ঞানহীন চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও দায়িত্বে অবহেলার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি জানান তিনি।

সম্প্রতি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা থেকে নারায়ণগঞ্জের আষাড়িয়ারচর পর্যন্ত প্রায় ৩২ ঘণ্টা তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া এ যানজটে ভোগান্তিতে পড়েন অসংখ্য যাত্রী। শাহাদাত হোসেন সেলিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যানজটে আটকে থাকা একটি অ্যাম্বুলেন্সের রোগীর মৃত্যু এবং সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছাতে না পারায় কয়েকজন প্রবাসীর ফ্লাইট মিস করার ঘটনাও ঘটে।

এ পরিস্থিতির কারণ খতিয়ে দেখতে জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীরা অনলাইনে বৈঠকে যুক্ত ছিলেন।

শাহাদাত হোসেন সেলিম জানান, তিনি হুইপের পাশে থেকে পুরো বৈঠকটি পর্যবেক্ষণ করেছেন। এত বড় জনদুর্ভোগের পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুশোচনা বা দায়বদ্ধতার যথেষ্ট প্রকাশ তিনি দেখতে পাননি বলে দাবি করেন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, সেতু সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের বিষয়েও সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার কিংবা কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের কাছে আগে থেকে কোনো তথ্য ছিল না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে এমন সমন্বয়হীনতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতিকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শাহাদাত হোসেন সেলিম আরও দাবি করেন, পরিস্থিতি দেখে হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার মতে, সেতু সংস্কারের আগে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জানানো প্রয়োজন ছিল। সংবাদপত্র, টেলিভিশনের স্ক্রল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগাম প্রচার চালানো হলে যাত্রীরা বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে পারতেন এবং বড় ধরনের দুর্ভোগ এড়ানো সম্ভব হতো।

পরে হুইপ সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলেও জানান তিনি। তবে সেখানেও দায়িত্বশীলতার ইতিবাচক মনোভাব পাওয়া যায়নি বলে নিজের পোস্টে দাবি করেন শাহাদাত হোসেন সেলিম।

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি ও দায়িত্বহীনতার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।

পরে সাংবাদিকদের কাছে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দেন বিএনপির এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ দেখে তিনি অত্যন্ত কষ্ট পেয়েছেন। সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও কোনো কার্যকর ফল পাননি। এ কারণেই হতাশা ও ক্ষোভ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই পোস্ট দিয়েছেন।

শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, জনগণের দুর্ভোগ তাকে ব্যথিত করেছে। কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বারবার কথা বলেও সমাধান না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত মনের কষ্ট থেকেই তিনি ওই স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, শাহাদাত হোসেন সেলিম একসময় বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ