ময়মনসিংহ নগরে রাজিব আহম্মেদ রুবেল (৩৮) নামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় বাড়িওয়ালাসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
সোমবার রাতে কোতোয়ালি মডেল থানায় নিহতের বাবা মো. আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ দিন আগে রাজিব আহম্মেদ নগরের আর কে মিশন রোড এলাকার ৩৬ বাড়ি কলোনির একটি বাসা ভাড়া নিয়ে একা বসবাস শুরু করেন। বাসা নেওয়ার কিছুদিন পর বাড়ির মালিক পারুল বেগমের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, একপর্যায়ে বাড়িওয়ালা রাজিবকে দ্রুত বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। সময় চাইলেও বাড়িওয়ালা ও তার ছেলেরা তাকে নিয়মিত ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত রোববার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে বাসা ছাড়াকে কেন্দ্র করে আবারও উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বাড়িওয়ালা, তার ছেলেরা এবং মামলার অন্য আসামিরা রাজিবের কক্ষে প্রবেশ করে তাকে চেপে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে নিহতের বাবা ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ শয়নকক্ষের বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআইয়ের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রনি ও সজল নামে দুজনকে আটক করে। পরে সোমবার রাতে তাদের কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হলে দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজন চন্দ্র পাল জানান, এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। আটক দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।