নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির পর্যটন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এখনো ৫৭৯ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৪০০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিক।
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৬৪ জনের মরদেহ চিতওয়ান জেলায় এবং আরও ২৬ জনের মরদেহ ইস্ট নওয়ালপরাসি জেলায় পাওয়া গেছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ২৮ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।
দুর্যোগে বহু বাড়িঘর ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীর পানির তীব্র স্রোতে ঘরবাড়ি ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপ জমেছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

ছবি: রয়টার্স
এদিকে নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নেপালে অন্তত ৫৪ জন মার্কিন পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। দুর্গতদের সহায়তায় নেপালকে ৫ লাখ ডলারের জরুরি সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দেশটি।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ জানিয়েছেন, ৩৪ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ১০৫ জনেরও নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে কলকাতার ৩২ জন রয়েছেন।
বিদ্যুৎ অবকাঠামোও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। দেশটির বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

ছবি: রয়টার্স
নেপাল সেনাবাহিনী দুর্গত এলাকায় হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলা কর্মী মোতায়েন করেছে। স্থানীয় প্রশাসন নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সতর্কতা জারি করেছে।
অন্যদিকে চীনের তিব্বতেও এই দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, গিরং কাউন্টিতে বন্যায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে ৫৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক।
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। চীন-নেপালের মধ্যে পর্যটক ও যানবাহন চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথ গিরং এলাকাটিও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।