🏠︎ » বাংলাদেশ » কৃষি » কৃষিতে আরও বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি রিজভীর

কৃষিতে আরও বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি রিজভীর

দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কৃষি খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় আগামী বাজেটে এ খাতে আরও বেশি বরাদ্দ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: কৃষি উন্নয়নের রূপরেখা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, চলতি বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ গত বছরের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিবেচনায় সেই বৃদ্ধি যথেষ্ট নয়। সরকারের নির্ধারিত উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে কৃষিতে আরও বেশি বিনিয়োগ, কার্যকর তদারকি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। অন্যথায় কৃষি খাতের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি ব্যাহত হতে পারে।

তিনি বলেন, বাজেটে ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষকের মধ্যে কৃষি কার্ড বিতরণের উদ্যোগ ইতিবাচক। এই কর্মসূচি গ্রামীণ অর্থায়ন সহজ করবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

কৃষি ব্যাংক ও রাকাবের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রিজভী বলেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় কৃষিঋণ কর্মসূচি চালু হয় এবং কৃষকদের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ, পাওয়ার টিলারের ব্যবহার, খাল খনন এবং চাল রপ্তানির মতো পদক্ষেপ কৃষি খাতকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে কৃষির অবদান প্রায় ৫ থেকে ৬ শতাংশ। এই অবদান ৭ থেকে ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে পরিকল্পনা নেওয়া উচিত। কারণ দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৪০ শতাংশই কৃষি খাতের ওপর নির্ভরশীল।

সম্প্রতি ভিয়েতনাম সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রিজভী জানান, দেশটি বাংলাদেশ থেকে এক লাখ মেট্রিক টন আলু আমদানিতে আগ্রহ দেখিয়েছে এবং প্রথম ধাপে ৩০ হাজার মেট্রিক টন আলু নেওয়া হচ্ছে। তার মতে, কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাজার আরও সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং অতিরিক্ত উৎপাদিত পণ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমবে।

তিনি কৃষি গবেষণায় আরও বিনিয়োগ এবং দক্ষ কৃষিবিদদের মেধার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি আধুনিক সংরক্ষণ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আলু, ফল, সবজি, পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের মতো কৃষিপণ্যের অপচয় কমিয়ে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রিজভীর মতে, কৃষি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, গবেষণা জোরদার এবং বৈজ্ঞানিক জনবল গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষিভিত্তিক শিল্পের ব্যাপক বিকাশ ঘটাতে পারে। তিনি উদাহরণ হিসেবে নিউজিল্যান্ড ও ডেনমার্কের কৃষিভিত্তিক শিল্পোন্নয়নের কথা উল্লেখ করেন।

সেমিনারে এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহাম্মদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আক্তারুজ্জামান খান, ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষিবিদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ