🏠︎ » অর্থনীতি » এলএনজি সরবরাহ কমায় দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট, চাপে শিল্প-বিদ্যুৎ ও আবাসিক খাত

এলএনজি সরবরাহ কমায় দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট, চাপে শিল্প-বিদ্যুৎ ও আবাসিক খাত

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ কমে যাওয়ায় সারা দেশে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এ সংকটে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সিএনজি পরিবহন এবং আবাসিক গ্রাহক সব খাতেই ভোগান্তি বেড়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় রান্নার চুলা জ্বলছে না, আর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের।

রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, গ্যাস নিতে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি। চালকদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস না পাওয়ায় তাদের আয়-রোজগার কমে গেছে। অন্যদিকে পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে বিভিন্ন শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সেটি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। বর্তমানে বিদেশি প্রকৌশলীরা টার্মিনালটির মেরামতকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এটি পুরোপুরি সচল হতে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ করা হয় প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট। কিন্তু একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় সরবরাহ কমে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। ফলে গ্যাসের ঘাটতি বেড়ে প্রায় ৪৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

সরকার জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালের অক্ষত বয়লার চালুর চেষ্টা চলছে। এটি চালু করা গেলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে, যা চলমান সংকট কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

এদিকে গ্যাস সংকটের প্রভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনও কমে গেছে। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে। তবে গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, বর্তমানে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ