সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রী মুফতি মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরির পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। নিহতের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তাদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে নিহতের মরদেহ দাফন, পরিবারের স্থায়ী আবাসন এবং সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী।
গত ১৩ অক্টোবর ধর্মমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মাওলানা ইয়াকুব ওসমানীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের বদরপুরে নিহত নাসরুল্লাহর বাড়িতে যায়। এ সময় পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। পরিবারের সঙ্গে ফোনালাপে ধর্মমন্ত্রী মরদেহ জান্নাতুল বাকিতে দাফন অথবা দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে পরিবারটিকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেন তিনি।
এদিকে, হামলার শিকার ৪৫ সদস্যের ওমরাহ কাফেলার ৩৩ জন সদস্য গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেন। ধর্মমন্ত্রীর নির্দেশনায় তার একান্ত সচিব ছাদেক আহমদ, পরিচালক (হজ) মো. লোকমান হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে দেশে ফেরা যাত্রীদের অভ্যর্থনা জানান। এ সময় জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের মহাসচিব আকরাম হোসাইন এবং জামেয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি ফয়জুল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ৪৫ সদস্যের একটি ওমরাহ কাফেলা হামলার শিকার হয়। এতে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি নিহত হন বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রী মুফতি নাসরুল্লাহ (৪৫)। তিনি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুরের বাসিন্দা এবং ওই কাফেলার দলনেতা ও ইমাম ছিলেন। এ ঘটনায় কাফেলার আরও কয়েকজন সদস্য আহত হন।
হামলার খবর পাওয়ার পরপরই কাফেলার সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ধর্মমন্ত্রী। সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ নেন তিনি। সে সময় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকলেও সার্বক্ষণিকভাবে আহতদের খোঁজখবর রাখেন ধর্মমন্ত্রী।
হামলায় ওমরাহযাত্রীদের লাগেজ হারিয়ে গেলে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাদের আপ্যায়ন ও নতুন পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি দেশে ফেরার টিকিট নিশ্চিত করা এবং যাত্রীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়।