ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণের মান নিশ্চিত করতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিন বছরের ওয়ারেন্টি জামানত নেওয়া এবং আর্সেনিকপ্রবণ এলাকায় নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, এমপি।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, আলহাজ জসীম উদ্দীন আহমেদ, শেখ ফরিদ আহমেদ, সেলিনা সুলতানা, এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং মো. রফিকুল ইসলাম খান অংশ নেন।
বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। পরে কমিটির সদস্যদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এরপর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে কমিটির সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
সভায় মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি সরকারের গত ১৮০ দিনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ও কার্যক্রম সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়।
স্বাগত বক্তব্যে কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি তাঁদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত ছাত্র-জনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আর্সেনিকযুক্ত এলাকা শনাক্ত করে সেসব স্থানে নিরাপদ ও সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে গ্রামীণ সড়ক ও রাস্তাঘাট নির্মাণে গুণগত মান, দীর্ঘস্থায়িত্ব, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিন বছরের ওয়ারেন্টি বাবদ জামানত নেওয়ার সুপারিশ করে কমিটি। একই সঙ্গে নির্মাণকাজের মান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এডিস মশার বিস্তার রোধ ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজ নিজ এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা অভিযান তদারকির সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়।
বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা, স্বজনপ্রীতিমুক্ত আচরণ ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। উপজেলা পর্যায়ে অনলাইনভিত্তিক হাজিরা ব্যবস্থা চালুর সুপারিশও করা হয়।
এ ছাড়া বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে দেশি-বিদেশি অর্থায়নে নেওয়া অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলোতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে কমিটি।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিবদ্বয়, অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিবরা, বিভিন্ন অধিদপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।