🏠︎ » খেলাধুলা » ফুটবল » মেসির বাকি ফুটবল কি শুধু মায়ামির গোলাপি জার্সিতেই?

মেসির বাকি ফুটবল কি শুধু মায়ামির গোলাপি জার্সিতেই?

আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতে লিওনেল মেসির দীর্ঘ পথচলার শেষ প্রান্ত যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। রিভারপ্লেটের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে শেষ ম্যাচের আগে জাতীয় দলের সতীর্থদের সঙ্গে শেষ অনুশীলনের মুহূর্তটি তাই মেসির জন্য হয়ে উঠেছিল আবেগঘন এক বিদায়ের বার্তা।

বেনিনের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগে ২১ বছরের পুরোনো অভ্যাসগুলো যেন নতুন করে নাড়া দেয় আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে। জাতীয় দলের ক্যাম্প, সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন, দীর্ঘ ভ্রমণ, জাতীয় সংগীতের সঙ্গে মাঠে নামা—এসব পরিচিত মুহূর্ত আর কতদিন থাকবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতীর্থদের সঙ্গে শেষ অনুশীলনের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে মেসি লেখেন, ‘বিশেষ মুহূর্তগুলো, যা আমি খুব মিস করতে যাচ্ছি…’। আর্জেন্টিনার পতাকার ইমোজি দেওয়া সেই পোস্টে ফুটে ওঠে বিদায়ের আবেগ।

জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ হওয়ার পর মেসির ক্লাব ফুটবলের ভবিষ্যৎ অবশ্য অনেকটাই স্পষ্ট। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৮ সাল পর্যন্ত ইন্টার মায়ামির সঙ্গে থাকবেন তিনি। অর্থাৎ ওই বছরের মেজর লিগ সকার মৌসুম শেষ হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাবটির গোলাপি জার্সিতেই দেখা যেতে পারে তাকে।

তবে মেসির সঙ্গে মায়ামির সম্পর্ক শুধু মাঠের খেলায় সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই। চুক্তির মেয়াদ শেষে ক্লাবটির ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হওয়ার পথও তৈরি রয়েছে। জানা গেছে, অবসরের পর ইন্টার মায়ামির পরিচালনা পর্ষদে ডেভিড বেকহাম ও মাস পরিবারের সঙ্গে কাজ করতে পারেন মেসি। এমনকি ক্লাবের মালিকানার একটি উল্লেখযোগ্য অংশও তার হাতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফুটবল ছাড়ার পর মেসি কী করবেন এ প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। শরীর ও মন সায় দিলে মায়ামির হয়ে আরও কয়েক বছর মাঠে থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে কোচিং পেশায় যাওয়ার ব্যাপারে মেসির আগ্রহ খুব একটা দেখা যায়নি। বরং ক্লাবের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হওয়ার বিষয়টিকেই তিনি বেশি পছন্দ করেন বলে বিভিন্ন সময়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

মেসির যুক্তি, একজন কোচকে প্রতি সপ্তাহের ম্যাচের ফলাফল, খেলোয়াড়, কৌশলসহ নানা বিষয় নিয়ে সরাসরি চাপের মধ্যে থাকতে হয়। অন্যদিকে মালিক কিছুটা আড়ালে থেকে পুরো ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করতে পারেন। তবে মেসি এমন মালিক হতে চান না, যিনি শুধু ব্যবস্থাপক নিয়োগ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করবেন; বরং ক্লাবের কার্যক্রমের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার আগ্রহ রয়েছে তার।

গত বছরের নভেম্বরে মায়ামিতে অনুষ্ঠিত ‘আমেরিকা বিজনেস ফোরামে’ মেসি জানিয়েছিলেন, ব্যবসার বিষয়টি তাকে আগ্রহী করে এবং এ বিষয়ে আরও শেখার ইচ্ছা রয়েছে তার।

ইতোমধ্যে ফুটবলকেন্দ্রিক বিনিয়োগেও নিজের আগ্রহের প্রমাণ দিয়েছেন মেসি। বার্সেলোনার কাছাকাছি পঞ্চম স্তরের ক্লাব ইউই কর্নেয়া কিনেছেন তিনি। পাশাপাশি স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব সিডি এলদেনসেতেও বিনিয়োগ করেছেন। ক্লাবটির ম্যাচগুলোতেও নিয়মিত নজর রাখছেন তিনি।

এর বাইরে শৈশবের ক্লাব আর্জেন্টিনার নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজের প্রতিও মেসির টান অটুট। মায়ামিতে তার নামে গড়ে ওঠা একাডেমির আয়োজিত ‘মেসি কাপ’-এ নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজকে আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন তিনি। ওই প্রতিযোগিতায় অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, চেলসি, বার্সেলোনা, ইন্টার মিলান, আর্সেনাল ও ইউই কর্নেয়ার মতো ক্লাবের অনূর্ধ্ব-১৬ দল অংশ নেয়।

নিজের সময় ও অর্থ ফুটবলের নতুন প্রজন্মের পেছনে বিনিয়োগ করছেন মেসি। সবকিছু মিলিয়ে মনে হচ্ছে, খেলোয়াড় হিসেবে অবসরের পরও ফুটবল থেকে দূরে যাচ্ছেন না তিনি। বরং মাঠের বাইরে থেকে নতুন প্রজন্মের ফুটবলার তৈরি, ক্লাব পরিচালনা ও ফুটবলভিত্তিক বিনিয়োগের মধ্য দিয়েই শুরু হতে পারে মেসির জীবনের পরবর্তী অধ্যায়।

Noxoit Ads

আরও পড়ুন

সর্বশেষ