🏠︎ » বাংলাদেশ » রাজধানী » স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর খোলা আকাশের নিচে শিশুদের টিকাদান

স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর খোলা আকাশের নিচে শিশুদের টিকাদান

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার এক দিন পর সড়কের পাশে ত্রিপল টানিয়ে শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বাইরে টেবিল-চেয়ার বসিয়ে শিশুদের নিয়মিত টিকার পাশাপাশি হামের টিকাও দেওয়া হচ্ছে। এতে টিকা নিতে আসা শিশু ও তাদের মায়েদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের প্রবেশপথে ব্যানার ও ত্রিপল দিয়ে অস্থায়ী টিকাদানকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় টিকাদান সামগ্রী নিয়ে সেখানে সেবা দিচ্ছেন। বিভিন্ন বয়সী শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরাও টিকা দিতে আসছেন।

দেড় বছর বয়সী মেয়ে হালিমাকে টিকা দিতে নিয়ে আসা তার মা বলেন, বাসার কাছেই হওয়ায় আগেও তিনি এই কেন্দ্র থেকে মেয়েকে টিকা দিয়েছেন। এবারও টিকার জন্য এখানে এসেছেন।

আরেক অভিভাবক বলেন, আগেরবার স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে বসেই সন্তানকে টিকা দিতে পেরেছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রটি ভেঙে দেওয়ার পর এবার বাইরে দাঁড়িয়ে টিকা নিতে হচ্ছে। এতে শিশুর কষ্ট হচ্ছে এবং কান্নাকাটি করছে।

ইসরাত নামে এক নারী বলেন, আগামী মাসে তার মেয়ের টিকা দেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে রাড্ডা থেকেই মেয়েকে টিকা দিয়েছেন। তাই আগামী মাসে এখান থেকে টিকা দেওয়া হবে কি না, তা জানতে এসেছিলেন। সংশ্লিষ্টরা তাকে টিকা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বলেন, শনিবার থেকে হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভেঙে দেওয়ায় খোলা জায়গায় ত্রিপল টানিয়ে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে টিকাদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে আপাতত অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা আগের মতো দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বাইরে টেবিল-চেয়ার পেতে শুরু হয় হামসহ শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি।

তিনি বলেন, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী হামের টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। আশপাশের শিশুদের টিকা দিতে যেন সমস্যা না হয়, সে জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সেবা চালু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

রাড্ডা সেন্টারের কর্মকর্তারা জানান, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকার পাশাপাশি নিয়মিত টিকাও দেওয়া হচ্ছে। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত প্রায় ১২০ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে মিরপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

শনিবার দুপুরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাহআলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুরে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), মো. জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাবিব (২০)।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে প্রবেশ করে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করেন। পরে তারা মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, ভ্যাকসিন, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মালপত্র নিয়ে যায়।

এরপর ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে এ ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় এক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে শাহআলী থানায় মামলা করেছেন।

Noxoit Ads

আরও পড়ুন

সর্বশেষ