তপু রায়হান রাব্বি || ফুলপুর(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধি||
এই প্রথম ময়মনসিংহের ফুলপুরে আনসার-ভিডিপির প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে আনসার ভিডিপি দলনেতা মোঃ মশিউর রহমান মুন্নার উদ্যোগে কাঠ ও পারিবারিক পুষ্টি বাগান তৈরি করেছেন।
সোমার(২১ সেপ্টেম্বর) পয়ারী ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামে এ বাগানের উদ্বোধন করেন উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা ওমর ফারুক।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের পথ তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছেন আনসার ভিডিপি পৌরসভার ওয়ার্ড দল নেতা মোঃ মশিউর রহমান মুন্না। তিনি আর আগেও লটকন, বিভিন্ন কলার বাগান করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। আনসার-ভিডিপির প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত দক্ষতাকে আরো বেশি কাজে লাগিয়ে মশিউর নিজ উদ্যোগে এ কাজ শুরু করেছেন। এতে তাঁর আয় ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় সম্পদ কাজে লাগিয়ে অন্যদেরও উদ্যোক্তা হওয়ার অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন তিনি।
তার উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে উপজেলা কৃষি ও উপ-সরকারি কৃষি কর্মকর্তার পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের পরামর্শ উদ্যোগটি আরও কার্যকর করতে সহায়ক হবে। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রশিক্ষণ যে সদস্যদের দক্ষতা অর্জন ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে, তার উদ্যোগে তার একটি বাস্তব উদাহরণ।
উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আনসার ও ভিডিপি) উদ্যোগে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দেশব্যাপী পারিবারিক পুষ্টি বাগান ও কাঠবাগান তৈরি করার কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। সরকারের ‘এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে’ এই নীতি বাস্তবায়নে আনসার ও ভিডিপির তৃণমূল পর্যায়ের ভিডিপি সদস্যরা সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
তিনি আরো বলেন, এই উদ্যোগে পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপনগ্রামাঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এবং নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করবে। এছাড়াও ভিডিপি সদস্যদের মাধ্যমে বসতবাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় ও ছায়াযুক্ত অনাবাদি জমি চাষের আওতায় এনে শাকসবজি উৎপাদন করা হচ্ছে। এতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (DAE) সহযোগিতায় আনসার-ভিডিপি সদস্যদের বিভিন্ন উন্নত জাতের সবজি বীজ, জৈব সার ও নেট বিনামূল্যে প্রদান এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
এই বাগানের মাধ্যমে পরিবারের বিষমুক্ত ও টাটকা সবজির চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত অংশ বাজারে বিক্রি করে সদস্যরা বাড়তি আয় করছেন। কাঠবাগান তৈরির মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি সদস্যরা দীর্ঘমেয়াদে মূল্যবান কাঠ বিক্রি করে বড় অংকের অর্থনৈতিক সুবিধা পেয়ে থাকেন। সদস্যদের পুষ্টি ও কাঠবাগান সম্প্রসারণে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ক্ষুদ্রঋণ ও আর্থিক সহায়তার সুযোগ দেওয়া হয়।