🏠︎ » বাংলাদেশ » কৃষি » শখের চারা থেকে বাণিজ্যিক বাগান-ইউপি সদস্য হামিদুল্লাহর উদ্যোগে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা

শখের চারা থেকে বাণিজ্যিক বাগান-ইউপি সদস্য হামিদুল্লাহর উদ্যোগে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা

শখের বশে রোপণ করা কয়েকটি লটকনের চারা আজ বদলে দিয়েছে এক কৃষকের ভাগ্যের গল্প। শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের ভারুয়া গ্রামের ইউপি সদস্য মো. হামিদুল্লাহ এখন লটকন চাষে সফলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মাত্র ৫১টি গাছের লটকন বিক্রি করেই চলতি মৌসুমে তিনি আয় করেছেন প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। জানা যায়, ২০০৭ সালে নিজ জন্মস্থান নরসিংদীর বেলাব উপজেলার আমলাব এলাকায় চাচার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে একটি লটকনের বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হন হামিদুল্লাহ। ফেরার পথে কয়েকটি চারা সঙ্গে নিয়ে এসে বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত জমিতে রোপণ করেন। প্রায় সাত বছর পর, ২০১৪ সালে গাছে প্রথম ফল আসে। ফলন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হওয়ায় তিনি বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষের সিদ্ধান্ত নেন।


বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে শতাধিক লটকন গাছ। প্রতিটি গাছের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত থোকায় থোকায় ঝুলছে সুমিষ্ট লটকন। দূর-দূরান্ত থেকে ফল ব্যবসায়ীরা এসে সরাসরি বাগান থেকেই লটকন সংগ্রহ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগানের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিদিনই উৎসুক দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে।
ইউপি সদস্য মো. হামিদুল্লাহ বলেন, প্রথমে শুধুমাত্র শখের বশে কয়েকটি চারা লাগিয়েছিলাম। পরে ভালো ফলন দেখে বাগান সম্প্রসারণ করি। লটকন চাষে তুলনামূলক কম পরিচর্যার প্রয়োজন হয়।


তিনি জানান, একটি লটকন গাছ পরিপূর্ণ উৎপাদনে যেতে প্রায় ১০ বছর সময় লাগে। তবে একবার ফলন শুরু হলে প্রতি বছরই উৎপাদন বাড়তে থাকে। শুরুতে অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। অনেকের ধারণা ছিল, এ অঞ্চলের মাটিতে লটকনের ভালো ফলন সম্ভব নয়। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি।


হামিদুল্লাহ বলেন, আজ প্রমাণ হয়েছে ঝিনাইগাতীর মাটিতেও সফলভাবে লটকন চাষ করা সম্ভব। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বাগান সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই বাগান স্থানীয়দের জন্যও হয়ে উঠেছে কর্মসংস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। বাগানের শ্রমিক মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন,মেম্বারের বাগানে কাজ করে যে আয় হয়, তা দিয়েই আমার সংসার চলে। তার দেখাদেখি এলাকার আরও কয়েকজন লটকন চাষ শুরু করেছেন।


স্থানীয় কৃষক মো. আব্দুস সালাম জানান, হামিদুল্লাহর সফলতা দেখে তিনিও নিজের জমিতে লটকনের চারা রোপণের প্রস্তুতি নিয়েছেন। শিক্ষক মো. আবুল কাশেম বলেন, “এ বাগানের লটকন আকারে বড় এবং অত্যন্ত সুস্বাদু। লটকন একটি পুষ্টিগুণ ও ঔষধি বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ফল। এমন ফলন দেখে আমিও লটকনের চারা রোপণের আগ্রহ পেয়েছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, “ঝিনাইগাতীর মাটি ও আবহাওয়া লটকন চাষের জন্য উপযোগী। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে হামিদুল্লাহকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। সঠিক পরিচর্যা ও বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে লটকন চাষ এ অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।


তিনি আরও বলেন, অনাবাদি ও পরিত্যক্ত জমিকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক বিকল্প আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ