গতকাল বুধবার কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশপথে রাখা আছে প্রতিবেশীর একটি ট্রাক্টর। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন ট্রাক্টরটি এখানেই রাখা থাকে। ছোট মাঠজুড়ে রাখা হয়েছে ওয়াশ ব্লক নির্মাণসামগ্রী। উত্তর দিকে থাকা আধাপাকা ভবনের মাঝের শ্রেণিকক্ষে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষকের বসার চেয়ারের পেছনেই রাখা হয়েছে রডের বান্ডেল।
শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক বছরেরও বেশি সময় আগে প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লক নির্মাণকাজ শুরু করে নূর ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পিলার ও ছাদ তৈরির পর কয়েক মাস কাজ বন্ধ রাখে তারা। সম্প্রতি গাঁথুনির কাজ শুরু হয়েছে। এতদিন ধরে ইট, বালু ও সুরকি মাঠেই স্তূপ করে রাখা আছে। একই সঙ্গে আরেক ঠিকাদার ঢিলেঢালাভাবে বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ করছেন। তাদের লোকজন শ্রেণিকক্ষে রড রেখে কাজ করছেন।
এ কারণে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী অবসরে খেলাধুলার জন্য বিদ্যালয়ের ছোট মাঠটিও ব্যবহার করতে পারছে না। তারা পাশের সড়কে গিয়ে খেলাধুলা করে সময় কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। এ ছাড়া শ্রেণিকক্ষে রাখা রডের কারণে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা শিক্ষকদের।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী লামিয়া ও নাফিজা জানায়, মাঠের অভাবে এখন আর তারা বিদ্যালয়ে এসে খেলাধুলা করে না।
প্রতিবেশী বৃদ্ধ আরজু মিয়া বলেন, মাঠে ইট, বালু ও সুরকি রাখা মোটেও উচিত হয়নি। ছেলেমেয়েরা রাস্তায় গিয়ে খেলাধুলা করছে। এতে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটলে দায় কে নেবে? বক্তব্য জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নূর ট্রেডার্সের মালিক হুমায়ুন কবীরের মোবাইল নম্বরে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুলফিকার আলী ভূঁইয়া জানান, নির্মাণসামগ্রী রাখার সময় নিষেধ করলেও সংশ্লিষ্টরা কর্ণপাত করেননি। এখন দ্রুত সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য তাগাদা দিলেও তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
নান্দাইল উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী রেবেকা সুলতানা বলেন,মাঠে বা শ্রেণিকক্ষে মালপত্র রেখে কাজ করা যাবে না। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে মাঠ থেকে নির্মাণসামগ্রী সরানোর ব্যবস্থা করা হবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সালমা আক্তার জানান, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তবে দ্রুত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নান্দাইল ময়মনসিংহ সংবাদদাতাঃ