প্রেমিকার অন্যত্র বিয়ে ঠিক হওয়া এবং সরাসরি প্রত্যাখ্যানের কষ্ট সইতে না পেরে নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলায় গলায় ফাঁস দিয়ে এক কিশোর আত্মহত্যা করেছে। তার নাম মহসিন আল নাঈম (১৭)। সে দুর্গাপুরের মতিউর রহমানের ছেলে।
গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার সাধুপাড়া এলাকায় নিজ বসতঘরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে দুর্গাপুর থানা পুলিশ।
পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের মাদরাসা পড়ুয়া মেয়ের সাথে নাঈমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। যেহেতু ছেলেটির বয়স মাত্র ১৭ বছর এবং মেয়েটিও অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাই তাদের বিয়ের বিষয়টি এখনই সম্ভব ছিল না। এরমধ্যে ওই মেয়ের পরিবার মেয়েটির অন্যত্র বিয়ে ঠিক করে।
এদিকে গতকাল বিয়ের বাজার করার সময় দুর্গাপুরে ওই কিশোরের সাথে মেয়েটির দেখা হলে সেখানে মেয়েটি তাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। এ ঘটনায় নাঈম মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে চরম ভেঙে পড়ে।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ নিহতের মায়ের বরাত দিয়ে বলেন, গতকাল সোমবার নিজ বাড়িতে ফিরে নাঈম তার মাকে সব ঘটনা খুলে বলে। পরে সে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয় এবং একপর্যায়ে গলায় প্লাস্টিকের রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
ওসি বলেন, পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে মধ্যরাত ১২টার দিকে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই হাসপাতাল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। আজ সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের মা মারুফা আক্তার এ ঘটনার জন্য প্রেমিকা ও তার বাবাকে দায়ী করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
পুলিশ জানায়, এ বিষয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।