🏠︎ » রাজনীতি » আট দফা না মানলে এক দফার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জামায়াত আমিরের

আট দফা না মানলে এক দফার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জামায়াত আমিরের

গণভোটের রায় ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন এক দফায় রূপ নিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের বিভিন্ন পথসভা ও সমাবেশে তিনি এ বক্তব্য দেন।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন—এসব দাবিতে লংমার্চের আয়োজন করা হয়। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চেও ছয় দফা দাবি সামনে এনেছিল জোট।

রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে সকাল ৮টার দিকে লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। পথে গাজীপুরের ভোগড়া, টাঙ্গাইলের জলফৈ বাইপাস, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার মাটিডালি এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের সমাবেশে শফিকুর রহমান বলেন, আট দফা দাবি পূরণ না হলে তা এক দফায় পরিণত হতে পারে। তিনি সরকারের প্রতি জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। একই বক্তব্য তিনি সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলের পথসভাতেও দেন।

রংপুরের সমাপনী সমাবেশে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন; এখন সেই অঙ্গীকার রক্ষা করা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, সংবিধানে গণভোটের বিধান নেই—এমন যুক্তি দেখিয়ে গণভোটের ফল এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এসব বক্তব্য তার রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে তিনি তুলে ধরেন।

লংমার্চের বিভিন্ন পথসভায় জোটের শরিক দলের নেতারাও সরকারের সমালোচনা করেন। এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সরকারকে জনগণের অধিকার ও মানবাধিকার ইস্যুতে সমালোচনা করেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুও বক্তব্য দেন।

বগুড়া ও গাইবান্ধার পথসভাতেও সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করা হয়। জোটের নেতারা জ্বালানি ও সার সংকট, দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির মতো বিষয় তুলে ধরেন। গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে শফিকুর রহমান তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন।

রংপুর জিলা স্কুল মাঠে রাতে লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। শফিকুর রহমান বলেন, তাদের কর্মসূচি কোনো একক দলের দাবি নয়, বরং তারা এটিকে জনগণের দাবির আন্দোলন হিসেবে উপস্থাপন করছেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ