🏠︎ » রাজনীতি » অবশেষে দুঃখ প্রকাশ করলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

অবশেষে দুঃখ প্রকাশ করলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধের বিষয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ ও আলেম-ওলামাদের সম্পর্কে ভুল বার্তা যাওয়ায় তিনি দুঃখিত।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতো। তার দাবি, ওই বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ ও আলেম-ওলামাদের ওপর চাপিয়েছেন এবং এতে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের একটি কনসার্ট বন্ধ হওয়ার প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, গণমাধ্যমে ঘটনাটি যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, বাস্তবতা তার চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। গভীর রাতে উচ্চ শব্দে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল। এ কারণে শিক্ষার্থীরা শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন। পরে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন বলে তিনি দাবি করেন।

তার ভাষ্য, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করে দেয়নি; তারা শুধু শব্দ কমানোর অনুরোধ করেছিল। তাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ—এমন ধারণা সঠিক নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নৌকাবাইচের স্থান উল্লেখ করার ক্ষেত্রেও নিজের তথ্যগত ভুলের কথা স্বীকার করেছেন হাসনাত। তিনি জানান, সিলেটের পরিবর্তে ভুল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাম উল্লেখ করেছিলেন। এ ভুলের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ায় তিনি বিব্রত এবং এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করছেন।

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় সীমিত থাকায় মূল ঘটনা এবং গণমাধ্যমে সেটির উপস্থাপনের পার্থক্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে পারেননি বলেও জানান তিনি।

হাসনাত বলেন, তিনি এবং তার দল জুলাইয়ের আদর্শকে ধারণ করেন এবং সব নীতি ও সিদ্ধান্ত সেই আদর্শের ভিত্তিতেই নিতে চান। তার মতে, জুলাইয়ের আদর্শ হলো এমন একটি সর্বজনীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে সবার অধিকার নিশ্চিত থাকবে এবং কেউ নিজের মত বা দৃষ্টিভঙ্গি অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে মসজিদ, মন্দির, সঙ্গীত, ওয়াজ, মাজার, কনসার্ট, মাহফিল, রথযাত্রা ও সিনেমা উৎসবসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সহাবস্থান থাকবে। যার যে বিষয় পছন্দ, তিনি তাতে অংশ নেবেন এবং যা পছন্দ নয়, তাতে অংশ নেবেন না—রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে নাগরিকের এই অধিকার নিশ্চিত করা।

কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে, সরকারকে তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। বর্তমান সরকার সেই নিরাপত্তা দিতে পারছে না বলেও দাবি করেন হাসনাত। তার মতে, এতে সমতার বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণিনির্বিশেষে সবার আন্দোলন ছিল। মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করে একটি সর্বজনীন সমাজ প্রতিষ্ঠাই ছিল ওই আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য। সেই বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

যে বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক

গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে এক সম্পূরক প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে সাংস্কৃতিক জেলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেখানে গান-বাজনা ও সিনেমা বন্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে হাসনাত প্রশ্ন করেন, ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় যথাযথ ভূমিকা রাখতে পেরেছেন কি না।

তার ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতিবাদ শুরু হয়। শুক্রবার রাতে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরদিন বক্তব্য প্রত্যাহার ও দুঃখ প্রকাশের দাবিও ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে।

এর পরিপ্রেক্ষিতেই শনিবার নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ