ময়মনসিংহের ভালুকায় ২৩ বছর বয়সী এক নারী শ্রমিককে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে মুখ বেঁধে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আল আমিন (৩৬) ও হুসেন (২২) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন।
গ্রেপ্তার আল আমিন উপজেলার মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নের নয়নপুর এলাকার মৃত আতর আলীর ছেলে। অপর গ্রেপ্তার হুসেন একই এলাকার মোস্তফা কামালের ছেলে। গ্রেপ্তারের পর দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামি একই এলাকার আইন উদ্দিনের ছেলে ইকবাল হোসেনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী উপজেলার কাঠালী এলাকার স্কয়ার টেক্সকম ফ্যাক্টরিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। গত ৪ অক্টোবর রাতে কারখানায় ছুটি হওয়ার পর আনুমানিক রাত ১০টার দিকে অটোরিকশায় করে মল্লিকবাড়ী মোড় থেকে নয়নপুর এলাকায় এক বান্ধবীর বাড়িতে যাচ্ছিলেন তিনি।
এজাহারে বলা হয়েছে, নয়নপুরের ৯ নম্বর এলাকায় পৌঁছানোর পর পায়ে হেঁটে বান্ধবীর বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় আসামিরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে আল আমিনের বসতঘরে নিয়ে কাপড় দিয়ে মুখ বেঁধে আসামিরা পালাক্রমে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, নির্যাতনের পর বিষয়টি কাউকে জানালে ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়। পরে ৫ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে ভুক্তভোগীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এরপর তিনি ভালুকা মডেল থানায় গিয়ে তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে আল আমিন ও হুসেনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ভালুকা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুহিদুল আলম জানান, মামলার প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, মামলার প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামি পলাতক রয়েছে। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান চলছে।