🏠︎ » জাতীয় » স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আরও সময় চায় বিএনপি, পূজার নিরাপত্তায় সতর্ক থাকার নির্দেশ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আরও সময় চায় বিএনপি, পূজার নিরাপত্তায় সতর্ক থাকার নির্দেশ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের আগে আরও কিছুটা সময় নিতে চায় বিএনপি। পাশাপাশি আসন্ন দুর্গাপূজা ঘিরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হয়ে বৈঠকটি রাত ৯টা পর্যন্ত চলে। এতে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান।

দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল আসন্ন দুর্গাপূজার নিরাপত্তা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন। পূজাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য দলের নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় সতর্ক ও সজাগ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, কোনো গোষ্ঠী দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করতে পারে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট নেতাদের নিজ নিজ এলাকার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং পূজা উদযাপনে সহযোগিতা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশে নির্বাচন নিশ্চিত করতে চায়, যাতে ভোটাররা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। এবার দলীয় প্রতীক না থাকায় একই পদে দলের একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। এতে দলীয় ভোট বিভক্ত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বিভেদ ও কোন্দল বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতি এড়াতে সম্ভাব্য বিরোধগুলো আগেভাগে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান।

বৈঠকে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়। দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন সোমবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে পারে—এমন বিষয় আলোচনায় এলে কয়েকজন সদস্য জানান, এ বিষয়ে সরকার এখনো নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্ব দেয়নি। ফলে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা।

স্থায়ী কমিটির সদস্যদের কেউ কেউ মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ে যে অচলাবস্থা চলছে, তা কাটিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত চেয়ারম্যান, মেয়র, কাউন্সিলর ও মেম্বারদের অনেকে দায়িত্ব ছেড়ে চলে গেছেন। তবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পক্ষেও মত দিয়েছেন কয়েকজন নেতা। তাদের মতে, নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি গুছিয়ে নেওয়া জরুরি।

বৈঠক শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দুর্গাপূজা যেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে উদযাপন করতে পারেন, সে বিষয়ে নেতারা আলোচনা করেছেন। স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে বিএনপির নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানান তিনি।

রিজভী বলেন, দেশের বিরুদ্ধে এবং গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের চেষ্টা চলছে বলে তারা মনে করেন। এসব অপচেষ্টা মোকাবিলায় সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থেকে প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক ও প্রহরীর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

তিনি আরও জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর আগে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিএনপি সতর্ক রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বৈঠকে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান রুহুল কবির রিজভী। ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ এবং সাংগঠনিক তৎপরতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে নেতারা মতবিনিময় করেছেন বলেও জানান তিনি।

বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও ইসমাইল জবিউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

Noxoit Ads

আরও পড়ুন

সর্বশেষ