স্বাস্থ্য ডেস্ক: তীব্র গরমের পর বর্ষা নিয়ে আসে স্বস্তি ও সতেজতা। বৃষ্টিভেজা প্রকৃতি, মাটির সোঁদা গন্ধ আর এক কাপ গরম চা সব মিলিয়ে এই ঋতুর আলাদা আবেদন রয়েছে। তবে বর্ষার সঙ্গে বেড়ে যায় সর্দি-কাশি, জ্বর, গলা ব্যথা, পেটের সংক্রমণসহ নানা ধরনের মৌসুমি রোগের প্রকোপও।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টিভি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বর্ষাকালের অতিরিক্ত আর্দ্রতা, জলাবদ্ধতা এবং তাপমাত্রার ওঠানামা ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। তবে খাদ্যাভ্যাসে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এবং ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কেন বর্ষায় অসুস্থতা বাড়ে?
বর্ষাকালে দূষিত খাবার, অনিরাপদ পানি এবং মশার বংশবৃদ্ধির কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। ফলে অনেকেই আক্রান্ত হন :
- সর্দি-কাশি
- ভাইরাল জ্বর
- গলা ব্যথা
- পেটের সংক্রমণ
- অ্যালার্জি
- ছত্রাকজনিত ত্বকের রোগে
ভিটামিন সি কেন প্রয়োজন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি—
- কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে, যা ত্বকের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ।
- শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।
- শরীরের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে সাহায্য করে।
সাপ্লিমেন্ট নয়, প্রাকৃতিক খাবারই যথেষ্ট
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল ও সবজি রাখাই সবচেয়ে ভালো উপায়। যেমন—
- আমলকী
- পেয়ারা
- কমলা ও অন্যান্য লেবুজাতীয় ফল
- টমেটো
- ক্যাপসিকাম
এসব খাবারে ভিটামিন সি ছাড়াও ফাইবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকে, যা সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
বর্ষায় সুস্থ থাকতে যা করবেন
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ :
- পরিষ্কার, ফুটানো বা ফিল্টার করা পানি পান করুন।
- টাটকা রান্না করা খাবার খান, বাসি খাবার এড়িয়ে চলুন।
- নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।
- প্রতিদিন শরীরচর্চা করুন, প্রয়োজনে ঘরেই ব্যায়াম করুন।
- পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।
- ত্বক পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখুন।
- মশার বংশবৃদ্ধি রোধে কোথাও পানি জমতে দেবেন না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন কোনো একক খাবার নেই যা বর্ষাকালে অসুস্থতা পুরোপুরি প্রতিরোধ করতে পারে। তবে সুষম খাদ্য, ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে মৌসুমি সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারে।